চকরিয়ায় সরকারি স্কুলের গাছ কেটে নিলেন মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক
কক্সবাজারের চকরিয়ার উত্তর হারবাং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চত্বর থেকে বেশ কিছু বড় গাছ কেটে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, বিদ্যালয়টির সীমানা সংলগ্ন উত্তর হারবাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিন স্থানীয় কিছু বখাটে ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে দিনদুপুরে গাছগুলো কেটে নিয়ে গেছেন। গাছ কাটার সময় সেখানে বখাটেদের উপস্থিতির কারণে সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পাননি বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক শিক্ষক। তাই ঘটনাটি দেখলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনি।
বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ জানিয়েছেন, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) তিনি যখন স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং দাপ্তরিক কাজে ওয়াইফাই সংযোগ স্থাপনে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই এ ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, দুপুরের দিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিনের লোকজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর অংশ থেকে চারটি ফুলগাছ ও ম্যালেরিয়া গাছ কেটে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানার পর প্রধান শিক্ষক ফরিদ আহমদ তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেন।
অভিযোগের বিষয়ে উত্তর হারবাং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলাল উদ্দিনের দাবি, তিনি নিজে গাছ কাটেনি, বরং ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ের আসবাবপত্রের সংকট মেটাতে এগুলো বিক্রি করেছেন। তিনি আরও জানান, গাছ কাটার জন্য ম্যানেজিং কমিটির রেজোল্যুশন রয়েছে। তবে প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো ১৯ জানুয়ারির এডহক কমিটির সভার রেজোল্যুশনে গাছ নিলামের উল্লেখ থাকলেও, গাছ কাটার নির্দিষ্ট কোনো অনুমোদন ছিল না। পাশাপাশি বেলাল উদ্দিনের দাবি, গাছগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গায় নয়, বরং তার নিজ বিদ্যালয়ের জায়গা থেকে কাটা হয়েছে। প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো রেজোল্যুশনে দেখা যায়, চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি এডহক কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।
চকরিয়া উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মুহাম্মদ আলমগীর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা থেকেই চারটি গাছ কাটা হয়েছে এবং তিনি এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। বিষয়টি আমলে নিয়েছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার। তিনি জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদহানির বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

