পূজার তিন সিনেমা: দর্শক টানতে প্রচারণায় ঘাটতি
দুর্গাপূজা উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া তিনটি দেশীয় চলচ্চিত্র ‘চিরকুট’, ‘কাট-পিস’ ও ‘স্নেহের বন্ধন’ নিয়ে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে চলছে মিশ্র অভিজ্ঞতা। যদিও উৎসবের মৌসুমে একসঙ্গে তিনটি সিনেমা মুক্তি পাওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দর্শক টানতে হিমশিম খাচ্ছে সিনেমা হলগুলো। বিশেষ করে সিনেমার প্রচারণা ও মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিয়মিত চলচ্চিত্র দর্শকরা। হলিউড ও কোরীয় সিনেমার পাশাপাশি বাংলাদেশের ছবিও দেখেন। দুই বন্ধু সোমবার সেন্টার পয়েন্টে ‘চিরকুট’ দেখেছেন।
ঢাকার স্টার সিনেপ্লেক্সে ‘চিরকুট’ দেখতে যাওয়া আরিফুর নাহার বলেন, ‘ছবি দেখি, কিন্তু মন তো ভরে না।’ তার মতে, সিনেমা মুক্তির আগে যথাযথ প্রচারণার অভাব দর্শকদের হলে টানতে ব্যর্থ হচ্ছে। একইভাবে রাজশাহীর গ্র্যান্ড রিভার ভিউ সিনেপ্লেক্সের ডিজিটাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেহেদী হাসান জানান, সেখানে ‘চিরকুট’ ও ‘কাট-পিস’ প্রদর্শিত হলেও তৃতীয় দিনে ‘কাট-পিস’ সরিয়ে নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ দর্শক থাকলেও আগামী শুক্রবার তা ৭০ শতাংশে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।’ রাজশাহী অঞ্চলের গল্প হওয়ায় ‘চিরকুট’ নিয়ে স্থানীয়দের আবেগ থাকলেও প্রচারণার দুর্বলতার কথা স্বীকার করেন তিনি। আশা করছি, আগামী শুক্রবার তা বেড়ে ৭০ শতাংশে যেতে পারে। তন্ময় বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিলাম, কয়েকবার বেড়াতেও গেছি। তবে দর্শক টানার ক্ষেত্রে ছবিগুলো কতটা সফল হচ্ছে, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। তিন বন্ধুর সঙ্গে ঢাকার পান্থপথের স্টার সিনেপ্লেক্সে হলিউডের ‘স্ট্রিট ফাইটার’ দেখতে গিয়েছিলেন রোববার। পরিচিত অনেক মুখ থাকলেও তাঁদের দিয়ে পোস্টার করা হয়নি।’।
অন্যদিকে, কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসে পরিস্থিতির চিত্র অনেকটাই হতাশাজনক। প্রেক্ষাগৃহটির প্রতিষ্ঠাতা মির্জা আবদুল খালেক জানান, ‘স্নেহের বন্ধন’ ও ‘কাট-পিস’ দেখতে দর্শকদের আগ্রহ খুবই কম। বর্তমানে এই ছবিগুলোর আসনসংখ্যার ১০ শতাংশও পূরণ হচ্ছে না, যা সময়ের সাথে আরও কমছে। একই সুর শোনা গেল ঢাকার শ্যামলী সিনেমা হলের ব্যবস্থাপক আহসান উল্লাহর কণ্ঠে। তিনি জানান, ৩১৬ আসনের প্রেক্ষাগৃহে ‘কাট-পিস’ সিনেমার প্রতিটি প্রদর্শনীতে ১০টির বেশি টিকিট বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘হাতে সিনেমা নেই বলেই এটি চালাতে হচ্ছে, কিন্তু নির্মাতাদের দর্শকদের রুচি ও চাহিদার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি।’ ৩১৬ আসনের প্রেক্ষাগৃহটিতে প্রতিটি প্রদর্শনীতে এখন পর্যন্ত ছবিটির ১০টির বেশি টিকিট বিক্রি হয়নি।
তবে ভিন্ন অভিজ্ঞতাও রয়েছে দর্শকদের মাঝে। উত্তরার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তন্ময় হাসান জানান, ফেসবুকে ‘রাজশাহীর গল্প এবার বড় পর্দায়’ প্রচারণামূলক বার্তা দেখে তিনি বন্ধুসহ ‘চিরকুট’ দেখতে গিয়েছিলেন। তার মতে, সিনেমাটিতে ভালো হওয়ার মতো যথেষ্ট উপাদান ছিল।
সব মিলিয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন মনে করেন, সারা বছর নিয়মিত ভালো মানের সিনেমা নির্মাণ ও উৎসবের আমেজ তৈরির জন্য পরিকল্পিত প্রচারণার প্রয়োজন। তার ভাষ্যমতে, উৎসবের সময়ে বড় তারকাদের সিনেমা থাকলে অন্য ছবিগুলো নিয়েও দর্শকদের মধ্যে বাড়তি কৌতূহল ও আগ্রহ তৈরি হয়, যা এবার অনেকাংশেই অনুপস্থিত ছিল।

