গাড়িচাপা দিয়ে অসি এমপিকে প্রাণনাশের চেষ্টা
অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ল্যান্ড ক্রুজার ফোর-হুইল গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার শিকার ফেডারেল পার্লামেন্টের স্বতন্ত্র সদস্য হেলেন হেইন্সের দুই পা-ই শেষ পর্যন্ত কেটে ফেলতে হয়েছে। মেলবোর্নের আলফ্রেড হাসপাতালে জটিল ও দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর স্বামী ফিল হেইন্স।
গত সোমবার বিকেলে ওয়াঙ্গারাতায় নিজের কার্যালয়ের সামনে ইন্ডাই নির্বাচনী এলাকার এই পরিচিত নারী রাজনীতিবিদের ওপর কয়েক দফায় গাড়ি চালিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর একটি পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা তাঁর অপর পা-টি বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও তা রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে ফিল হেইন্স আবেগাপ্লুত কণ্ঠে জানান, হেলেন একটি বড় সংকট থেকে বেঁচে ফিরেছেন এবং সম্পূর্ণ সুস্থ হতে তাঁকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে। তবে এসবের মাঝেও তিনি অত্যন্ত স্থিতিশীল আছেন এবং বেঁচে আছেন—পরিবারের জন্য এটিই সবচেয়ে বড় স্বস্তির বিষয়। ৬৫ বছর বয়সী স্ত্রীর সহমর্মিতা, তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা ও লড়াকু মনোভাবের কথা উল্লেখ করে ৪০ বছরের দাম্পত্য জীবনের সঙ্গী ফিল বলেন, ‘হেলেনের হৃদয় ও মনটাই আমাদের পরিবারের মূল ভিত্তি।’ তাদের এই পরিবারে তিনটি সন্তান ও দুই নাতি-নাতনি রয়েছে। সুস্থতার এই প্রক্রিয়ায় তিনি সবাইকে ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’ তহবিলে অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যা উপলক্ষে একটি বিশেষ আবেদনও চালু করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সোমবারের এই হামলাটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। ঘটনার পরপরই সেলুনকর্মী রিকি জেফরিসসহ স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সাহসিকতায় ধারালো অস্ত্রসহ হামলাকারী ব্রেন্ডন নিউজান্টকে হাতেনাতে আটক করা হয়। বর্তমানে ব্রেন্ডনের বিরুদ্ধে বিপজ্জনকভাবে গাড়ি চালিয়ে গুরুতর আঘাত হানা, ইচ্ছাকৃতভাবে মারাত্মক ক্ষতিসাধন এবং একজন সরকারি কর্মকর্তাকে আঘাত করার রাষ্ট্রীয় অপরাধের পাশাপাশি আদালতে হত্যাচেষ্টার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
চিকিৎসাধীন এই নারী এমপির শারীরিক খোঁজ নিতে হাসপাতালে যান গভর্নর জেনারেল স্যাম মসটিন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি এই বর্বরোচিত আক্রমণকে পুরো দেশের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে আখ্যা দেন। এর প্রতিবাদে এবং আহত এমপির দ্রুত আরোগ্য কামনায় মঙ্গলবার রাতে ওডোঙ্গায় স্থানীয় শত শত মানুষ একত্রিত হয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন ও সংহতি সমাবেশ করেন।
জনপ্রতিনিধি এবং বিশেষ করে নারী আইনপ্রণেতাদের ওপর এমন নৃশংস হামলার পর পুরো অস্ট্রেলিয়াজুড়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

