চট্টগ্রামে ১,৯৪৯ মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার উৎসব শুরু

চট্টগ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে শুক্রবার। মহাষষ্ঠীর পুণ্যলগ্নে দেবী দুর্গার বোধন ও মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এই উৎসবের সূচনা হয়। চট্টগ্রাম নগরের ২৯৪টি এবং জেলার ১,৬৫৫টি মিলিয়ে মোট ১,৯৪৯টি পূজামণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। প্রতিটি মণ্ডপকে বর্ণিল আলোকসজ্জা এবং বাহারি সাজে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। দেবী দুর্গার বোধন, পূজা-অর্চনা, অঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ঘিরে চট্টগ্রামের মণ্ডপগুলোয় চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

পূজা সমন্বয় কমিটির সদস্য বিপ্লব পার্থ জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপগুলোর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বরাদ্দকৃত চাল ও আর্থিক অনুদান বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া পূজার ছুটি বৃদ্ধি পাওয়ায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ ও আনন্দ বিরাজ করছে। তিনি আরও জানান, মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসবেন, যা পুরো চট্টগ্রামবাসীর জন্য অত্যন্ত গৌরবের একটি বিষয়।

উৎসবের সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ও আগামীকাল মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর পূজা সম্পন্ন হবে। মহাসপ্তমীতে নবপত্রিকা স্নান এবং মহাষ্টমীতে সন্ধিপূজার বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা পালন করা হবে। এরপর মহানবমীতে দেবীর ভোগ নিবেদন ও মূল পূজা অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবের শেষ দিনে বিসর্জনের মাধ্যমে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে, যেখানে প্রতিমাগুলো শোভাযাত্রা সহকারে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে নিয়ে গিয়ে বিসর্জন দেওয়া হবে। অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

হিন্দু শাস্ত্র ও পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘটছে ঘোড়ায় চড়ে, যা ফসল ও শস্যহানির সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে দেবীর গমনের বাহন হলো নৌকা, যা শস্যবৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে। অশুভ শক্তির বিনাশ এবং শুভ শক্তির প্রতিষ্ঠার পৌরাণিক মাহাত্ম্যকে কেন্দ্র করেই এবারও চট্টগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদায় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মহিষাসুরের কবল থেকে দেবতাদের রক্ষা করতে অশুভ শক্তি দমনে দেবী দুর্গার আবির্ভাব ঘটেছিল। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘোড়ায় আগমনের সঙ্গে ফসল ও শস্যহানির আশঙ্কার কথা বলা হয়। অন্যদিকে, নৌকায় গমনের তাৎপর্য হিসেবে শস্যবৃদ্ধির কথা উল্লেখ রয়েছে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, মহিষাসুরের অত্যাচারে দেবতারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লে তাদের সম্মিলিত ঐশ্বরিক শক্তিতে আবির্ভূত হন দেবী দুর্গা। পরে মহিষাসুরের সঙ্গে যুদ্ধে তাকে পরাজিত ও বধ করেন দেবী।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *