ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত পোপ লিও, অস্ত্রোপচারে অংশ অপসারণ
ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা পোপ লিও ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়েছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তার চিকিৎসার অংশ হিসেবে স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রোমের জেমেলি হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। ভ্যাটিকানের প্রকাশিত মেডিকেল বুলেটিন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা তার ডান ফুসফুসের একটি অংশ সফলভাবে অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছেন। ৭১ বছর বয়সী পোপের এই অসুস্থতাকে তার দায়িত্বভার গ্রহণের পর অন্যতম বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি ফুসফুসের ক্যানসারের একটি পরিচিত ধরন।
অস্ত্রোপচারটি প্রায় ৯০ মিনিট ধরে চলে। পোপের প্রধান শল্যচিকিৎসক ডা. স্তেফানো মার্গারিতোরা এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. লুইজি কারবোনের দেওয়া তথ্যমতে, ভিডিও-সহায়তাপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে পোপের ডান ফুসফুসের নিচের খণ্ডটি অপসারণ করা হয়েছে। মূলত ক্যানসার নির্মূল করার লক্ষ্যেই এই জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়। তবে লসিকাগ্রন্থিতে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে কি না বা টিউমারের প্রকৃত আকার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আরও পরীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুসফুসের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ডা. স্টিফেন লিউ রয়টার্সকে জানান, অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা সম্ভব হলেও রোগের বর্তমান পর্যায় সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও তথ্য প্রয়োজন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, টিউমারটি ছোট আকারের হলে এবং লসিকাগ্রন্থিতে সংক্রমণ না ছড়িয়ে থাকলে এই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমেই রোগটি পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব হতে পারে। তার জন্ম ১৯৫৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে। সম্প্রতি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার সময় তার ফুসফুসে অস্বাভাবিক টিস্যু বা টিউমার ধরা পড়ে। তাদের লক্ষ্য ছিল ক্যানসার আক্রান্ত সব টিস্যু সরিয়ে ফেলা। মানুষের ফুসফুসে মোট পাঁচটি খণ্ড থাকে।
হাসপাতালে যাওয়ার পথে পোপ লিওকে বেশ স্বাভাবিক দেখা গেছে। রোমের জেমেলি হাসপাতালে যাওয়ার সময় কালো রঙের একটি গাড়িতে বসে তাকে শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে হাত নাড়তে দেখা যায়। হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষায় থাকা অনেকে তাকে ইতালীয় ভাষায় ‘আগুরি’ বলে শুভকামনা জানান। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের মে মাসে ক্যাথলিক চার্চের কার্ডিনালদের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে পোপ লিও চার্চের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। ৭১ বছর বয়সে তিনি চার্চের অন্যতম কনিষ্ঠ ধর্মগুরু হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই আকস্মিক অসুস্থতার কারণে আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত তার সব প্রকাশ্য কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে। এর বাইরে তার আগামী ৬ থেকে ১৭ নভেম্বর নির্ধারিত উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও পেরু সফরের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কালো রঙের একটি গাড়িতে করে প্রায় ৯ কিলোমিটার দূরের জেমেলি হাসপাতালে যাওয়ার সময় গাড়ির পেছনের অংশ থেকে তাকে হাত নাড়তে দেখা যায়। ৭১ বছর বয়সে তিনি চার্চের নেতৃত্বে তুলনামূলকভাবে কম বয়সী ধর্মগুরুদের একজন। অস্ত্রোপচারের সময় নেওয়া টিস্যুর পরীক্ষায় চিকিৎসকদের আগের সন্দেহের সত্যতা পাওয়া গেছে।
পোপ লিওয়ের স্বাস্থ্যগত ইতিহাস বেশ ঘটনাবহুল। এর আগে ১৯৮৫ সালে পেরুর চুলুকানাসে তরুণ যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। সে সময় প্রচণ্ড শারীরিক কষ্টের মুখে তিনি মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষা করেছিলেন বলে পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন। বর্তমান বিশ্বের প্রায় ১৪০ কোটি ক্যাথলিক খ্রিষ্টানদের ধর্মীয় নেতা হিসেবে তার দ্রুত আরোগ্য কামনায় বিশ্বজুড়ে প্রার্থনা চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়টি তার শারীরিক উন্নতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখছেন। ২০২৫ সালের এপ্রিলে ৮৮ বছর বয়সে তার জীবনের একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছিল এমন খবরের প্রেক্ষাপটে বর্তমান চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা দুটোই কাজ করছে।

