সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা বিচারের জন্য প্রস্তুত

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ চারজনের বিরুদ্ধে দাখিল করা অভিযোগপত্র আমলে নিয়েছেন আদালত। এর মাধ্যমে মামলাটি এখন বিচারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত হলো। রোববার ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালতে শুনানি শেষে চার্জশিটটি গ্রহণ করা হয়। এ সময় কারাগারে থাকা আনিসুল হককে আদালতে হাজির করা হলেও বাকি তিন আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আসামি আনিসুল হকের নিজ নামে এবং তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে প্রায় ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, আনিসুল হকের বৈধ আয় ও পারিবারিক ব্যয় সমন্বয়ের পর ১৭২ কোটি ২৪ লাখ ৩২ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদের কোনো যৌক্তিক উৎস পাওয়া যায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন এবং দীর্ঘ তদন্ত শেষে চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, আনিসুল হকের স্বনামে ও বেনামে মোট ১৮০ কোটি ৮৫ লাখ ৭৩ হাজার ৮৮১ টাকা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয় থেকে পারিবারিক ব্যয় বাদ দিয়ে নিট গ্রহণযোগ্য আয় পাওয়া যায় ৮ কোটি ৬১ লাখ ৪০ হাজার ৯৪০ টাকা।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, আনিসুল হকের নামে ৯৬ কোটি ৮০ লাখ ৬৬ হাজার ৮৮০ টাকার সম্পদ রয়েছে। পাশাপাশি তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট তিন ব্যক্তির নামে আরও ৮৪ কোটি ৫ লাখ ৭ হাজার ১ টাকার সম্পদ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তার ছোট ভাইয়ের স্ত্রী জেবুন্নেছা বেগম হকের নামে ২৩ কোটি ৩২ লাখ ২ হাজার ৩২১ টাকা, ভাগনে শেখ মো. ইফতেখারুল ইসলামের নামে ২০ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার ৪৪৪ টাকা এবং কাজিন পরিচয়ধারী মোহাম্মদ ইকবালের নামে ৪০ কোটি ১ লাখ ২৩ হাজার ২৩৬ টাকার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, আনিসুল হক ও তার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ২৩টি ব্যাংক হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। এই হিসাবগুলোতে মোট ৩৭৫ কোটি ৫০ লাখ ৯৯ হাজার ৪৫২ টাকা জমা করা হয়েছে এবং ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ২৭ হাজার ১২৯ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এসব ব্যাংক হিসাবে মোট ৭৩৭ কোটি ২৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ টাকার অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *