নিখোঁজ কিশোর সবুজের ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান
টাঙ্গাইলের সখিপুর পৌর এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কলেজ মোড়ের বাসিন্দা সিরাজ মিয়ার ১৪ বছর বয়সী ছেলে সবুজ গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে নিখোঁজ ছিল। অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর সে ফিরে আসেনি। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন ২৭ সেপ্টেম্বর তার বাবা সখিপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। একই দিনে গোপালপুর উপজেলার কালীবাড়ী বাজার এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় কিশোরটির অটোভ্যানটি উদ্ধার করে পুলিশ এবং ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিখোঁজের দীর্ঘ ২৪ দিন পর উপজেলার আন্দি এলাকার শালবন থেকে তার লাশ ও পরনের পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে।।
দীর্ঘ সময় ধরে সবুজের কোনো হদিস না মেলায় তার পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে ছিল। তদন্তে গাফিলতির অভিযোগ তুলে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করেছিলেন তার বাবা-মা। একপর্যায়ে তদন্তে যুক্ত হয় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গত ১৯ অক্টোবর এসআরবি সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানকে (৩৫) টাঙ্গাইলের বাসাইল এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। তারা পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গ্রেপ্তারকৃত হাবিবুরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সখিপুরের আন্দি এলাকার শালবনে অভিযান চালানো হয়।
সেখানে ঝোপঝাঁড়ের ভেতর থেকে কিশোর সবুজের হাড়গোড় ও পোশাক উদ্ধার করা হয়। পরে তার বাবা সিরাজ মিয়া ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া পোশাক ও জুতা দেখে সবুজের বলে নিশ্চিত করেন। সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুরাদ হোসেন জানান, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এই কিশোরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে ঘটনায় জড়িত অন্যদের চিহ্নিত করতে পুলিশের তদন্ত কার্যক্রম চলছে।
উদ্ধারের পর মঙ্গলবার সখিপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সবুজের মা অভিযোগ করেন, গোপালপুর থানা পুলিশের গাফিলতির কারণে লাশ উদ্ধারে বিলম্ব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভ্যানসহ আসামিদের গ্রেপ্তারের পর যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে অনেক আগেই সবুজের অবস্থান জানা সম্ভব হতো। তার অভিযোগ, ওই সময় থানা পুলিশ তাদের যথাযথ সহায়তা না দিয়ে বরং দুর্ব্যবহার করেছে।
সবুজের মায়ের এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর দুজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং ভ্যান উদ্ধারের পর তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। তবে সেই জিজ্ঞাসাবাদে সবুজের বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া থানা হেফাজতে তাদের সঙ্গে কোনো অসদাচরণের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। নিখোঁজ সবুজের মায়ের অভিযোগের জবাবে টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ২৭ সেপ্টেম্বর দুজন লোকের সহযোগিতায় আমরা একটি ভ্যান উদ্ধার করেছি এবং দুজন লোককে গ্রেপ্তার করেছি, গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি কিন্তু তাদের কাছ।

