ইশরাক: পদত্যাগের আগে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কী কথা হয়েছিল

মাদকবিরোধী অভিযানে অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসা সদ্য পদত্যাগী প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এমপি তার পদত্যাগের আগের পরিস্থিতির বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। সেখানে দুজনের মধ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয় বলে জানান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।

১৭ অক্টোবর গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশে পলিথিনের ছাউনি ঘেরা একটি স্থানে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন তিনি। প্রসঙ্গত, গেন্ডারিয়া থানার ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের রেললাইনের পাশের একটি মাঠের কোণায় পলিথিনের ছাউনির ঘরে ১৭ অক্টোবর মাদকবিরোধী অভিযান চালান ইশরাক হোসেন ও তার সহযোগীরা।

অভিযানে অস্ত্র হাতে মাদক বিক্রেতাদের ধাওয়া করার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ইশরাকের দাবি, অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রে তিনি নিরাপত্তা ঝুঁকি ও মাদক কারবারিদের গুলিবর্ষণের বিষয়ে সতর্কবার্তা পেয়েছিলেন। আত্মরক্ষার স্বার্থে এবং জানমালের নিরাপত্তায় তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা স্বল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেছিলেন বলে তিনি ব্যাখ্যা দেন। এটি এখন একটি ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে এবং সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। এমতাবস্থায় সুনির্দিষ্ট হামলার আশঙ্কা এবং জানমালের নিরাপত্তায় আমি এবং আমার সরকারি নিরাপত্তারক্ষীরা গাড়ি থেকে নেমে অত্যন্ত স্বল্প সময়ের জন্য আত্মরক্ষার্থে অস্ত্র উঁচিয়ে ধরি।

ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথোপকথনের বিষয়ে ইশরাক জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ১২ ঘণ্টার মধ্যেই তাকে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। ইশরাক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার একান্তে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হয়েছে। ক্যাবিনেট মিটিংয়ের মাঝে বিরতি দিয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কথা হয়। মিটিং শেষ হওয়ার পর পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে তারা পরবর্তী কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। ইশরাক দাবি করেন, এই কথোপকথন চলাকালেই তিনি সব বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। এই ঘটনায় হইচই শুরু হলে ১২ ঘণ্টা পার না হতেই প্রধানমন্ত্রী তাকে ডেকে পাঠান। গণমাধ্যমকে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে দুপুরে সময় দিয়েছিলেন। আমরা একান্তে দীর্ঘক্ষণ ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। এরপর ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সময় হয়ে যাওয়ায় তিনি উঠে সেখানে চলে যান। ক্যাবিনেটের পাশের একটি কক্ষে বসে ছিলাম, যাতে মিটিং শেষ হলে আমরা আবার আলোচনা চালিয়ে যেতে পারি। কারণ, আমাদের কথোপকথন তখনও শেষ হয়নি। তারা আরও বলেছেন, আপনি যদি প্রয়োজন মনে করেন, তাহলে আমরাও আপনার সঙ্গে থাকতে চাই।

পদত্যাগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে দলের প্রতি কোনো ক্ষোভ আছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে ইশরাক বলেন, দল কখনোই চাইবে না মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য পদত্যাগ করুক। তার দাবি, কিছু পত্রিকা ও সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে তাকে ও প্রধানমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এই প্রচার চালিয়েছে। তবে রোববার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর তার পদত্যাগের নির্দেশনা পাওয়ার খবর বের হলেও তিনি তা তাৎক্ষণিক অস্বীকার করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত সোমবার সকালে তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেন এবং তারেক রহমানের মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নেন। শপথ নেওয়ার মাত্র ৯ মাসের মাথায় ইশরাক হোসেনের এই পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিন-চারটি দৈনিক পত্রিকা পরিকল্পিতভাবে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। তবে তাৎক্ষণিক বিবৃতিতে ইরশাক দাবি করেছিলেন, এ ধরনের সংবাদ সর্বৈব মিথ্যা।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সাথে যোগাযোগের বিষয়ে ইশরাক জানান, অনেকেই তাকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০২০ সাল থেকে তার সঙ্গে কাজ করা মূল কর্মীরা তাকে ওই অবস্থানে দেখতে আগ্রহী।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *