আবাসন শিল্পে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াচ্ছে আরবান ডিজাইন

১৯৯৫ সালে একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে আবাসন খাতে যাত্রা শুরু করেছিল আরবান ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার হাসিব এম আবদুল্লাহ জানান, শুরুর দিন থেকেই ঢাকার মানুষের জন্য আধুনিক, মানসম্মত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় আবাসন নিশ্চিত করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। গত প্রায় তিন দশকের দীর্ঘ পথচলায় তারা গ্রাহকসেবার মান ঠিক রেখে সময়মতো প্রকল্প হস্তান্তরের নীতি মেনে চলেছেন। ধানমন্ডি, গুলশান, বনানী, উত্তরা, বারিধারা, ইস্কাটন, পল্টন, বসুন্ধরা, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া ও ইন্দিরা রোডসহ ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় তারা ১২৫টির বেশি আবাসন প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজারের বেশি পরিবার তাদের ওপর আস্থা রেখেছে এবং ৪৭০ জনের বেশি জমির মালিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছেন। আমাদের কাজের মূলনীতি ছিল তিনটি—প্রতিশ্রুত সময়ে প্রকল্প হস্তান্তর, সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব এবং নির্মাণের মানে কোনো আপস না করা। গত তিন দশকের পথচলায় আমরা সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই এগিয়েছি।

নির্মাণ শিল্পের আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে হাসিব এম আবদুল্লাহ বলেন, বর্তমান সময়ে আবাসন খাত ক্রমেই প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠছে। ভবিষ্যতের চাহিদা মাথায় রেখে আরবান ডিজাইন এখন প্রকল্পের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নির্মাণ ও তদারকির প্রতিটি স্তরে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করছে। বিশেষ করে ইআরপি সফটওয়্যারের প্রয়োগ তাদের প্রকল্পের নিখুঁত পরিকল্পনা ও কাজের সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে আপনারা কোন ধরনের প্রকল্পের স্বপ্ন দেখেছিলেন।

নির্মাণসামগ্রীর ক্রমবর্ধমান মূল্যবৃদ্ধি আবাসন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রড, সিমেন্ট ও ডলারের বিনিময় হারের অস্থিরতা এবং ঋণের উচ্চ সুদের কারণে খরচ কয়েক গুণ বেড়েছে। এই প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মানহীন নির্মাণকাজে বিশ্বাসী নয় প্রতিষ্ঠানটি। হাসিব এম আবদুল্লাহ জানান, তারা সবসময় দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যয়ের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করেন, যাতে গ্রাহকদের ওপর এর প্রভাব সহনীয় থাকে। তবে গুণগত মানের সঙ্গে কোনোভাবেই আপস করা হয় না এবং মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও তারা স্বচ্ছতা বজায় রাখেন। নির্মাণসামগ্রীর উচ্চ মূল্যের কারণে ব্যয় অনেক বেড়েছে।

ক্রেতাদের চাহিদার বিবর্তনের বিষয়ে তিনি লক্ষ্য করেন যে, প্রথাগত ক্রেতাদের তুলনায় নতুন প্রজন্মের চাহিদা অনেক বেশি আধুনিক। পুরনো প্রজন্মের ক্রেতারা মূলত অ্যাপার্টমেন্টের আয়তন, নিরাপত্তা ও বায়ু চলাচলের মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে গুরুত্ব দিলেও, নতুন প্রজন্মের কাছে স্মার্ট স্পেস প্ল্যানিং, যাতায়াত ব্যবস্থা, কমিউনিটি সুবিধা ও পরিবেশবান্ধব আবাসন বেশি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। আরবান ডিজাইন এই দুই প্রজন্মের চাহিদার মধ্যে একটি ভারসাম্য তৈরির কাজ করছে, কারণ তাদের মতে একটি বাড়ি কেবল বর্গফুট নয়, বরং একটি পরিবারের সামাজিক পরিচয় ও জীবনযাত্রার মানদণ্ড। এ অবস্থায় গ্রাহকদের জন্য অ্যাপার্টমেন্টের দাম স্থিতিশীল রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং।

আগামী দশকের আবাসন খাতের রূপরেখা নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় জমির সংকট বাড়ছে, তাই ভবিষ্যতে পরিকল্পিত ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসন প্রকল্পের চাহিদা বাড়বে। মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন শহরের আবাসন মানচিত্রে বড় ধরণের পরিবর্তন আনবে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরবান ডিজাইন বর্তমানে দক্ষ জনবল তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নির্মাণচর্চায় গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *