সুন্দরবনে অভিযান: জিম্মি চার জেলে উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১৭
সুন্দরবনের গহীনে বনদস্যুদের হাতে জিম্মি হওয়া ২১ জেলের মধ্য থেকে চারজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে কোস্ট গার্ড। সোমবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। যদিও চারজন উদ্ধার পেয়েছেন, কিন্তু এখনো ১৭ জন জেলে দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকায় তাদের পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন তারা এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে বাকি জেলেদের উদ্ধারে জোরালো অভিযান পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন। কখন ফিরবেন স্বজনেরা, সেই অপেক্ষায় পথ চেয়ে আছেন তাদের পরিবার।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে এবং উপকূলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে সুন্দরবনের শিপসা নদীর আরবানিয়া খালসংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। উদ্ধার হওয়া জেলেদের নাম মইনুর (৫০), বাদশা গাজী (৩৯), সুজন হোসেন (৩৪) ও ইমামুল মল্লিক (২২); তারা সবাই খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা জেলেদের রেখে বনের ভেতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে উদ্ধারকৃতদের নিজ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের নারকেলবাড়িয়া, আমবাড়িয়া, ভদ্রা ও ভাঙা এলাকায় হানা দিয়ে এই জেলেদের অপহরণ করা হয়েছিল। বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই অপহরণ এবং লুণ্ঠনের ঘটনায় মজনু, করিম শরীফ ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দস্যুরা জেলেদের জিম্মি করার পাশাপাশি একটি মাছ ধরার ট্রলার ও পাঁচটি মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সরঞ্জাম লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে অপহৃত বাকি ১৭ জেলেকে উদ্ধারে কোস্ট গার্ডের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

