আমি জানি, জ্ঞানেশের ঘুম উড়ে গেছে: রাহুল

কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন যে, ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার বর্তমানে চরম দুশ্চিন্তায় বিনিদ্র রজনী যাপন করছেন। সোমবার নয়াদিল্লিতে দলের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাহুল বলেন, ‘আমি জানি, উনিও এই সংবাদ সম্মেলন দেখছেন। তাঁর উচিত, রাজসাক্ষী হয়ে যাওয়া।’ রাহুলের মতে, জ্ঞানেশ কুমার অন্যায় করলেও তিনি মূল অপরাধী নন, কারণ এর নেপথ্যে অন্য কারো মস্তিষ্ক কাজ করছে। তাঁকে দ্রুত পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে রাহুল বলেন, এটাই প্রায়শ্চিত্তের একমাত্র পথ। দলমত–নির্বিশেষে সবাইকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লোকসভার বিরোধী নেতা বলেন, ‘এই লড়াই সংবিধান রক্ষার লড়াই। আজও জ্ঞানেশের উদ্দেশে রাহুল বলেন, ‘আপনি পদত্যাগ করুন। দেশের গণতান্ত্রিক চরিত্র রক্ষার লড়াই। আপনাদের, আমাদের সবার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। যে যেভাবে পারুন, এই লড়াইয়ের শামিল হোন। তিনি বলেন, ‘৫০ শতাংশ পুলিশ চায় আমরা লড়াই চালিয়ে যাই।

আইনি লড়াই ও সুপ্রিম কোর্টের ভূমিকা

প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বিরোধীদের বৈঠক না হওয়া প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, সরকার প্রচার করছে যে প্রধান বিচারপতি বিরোধীদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি, তবে তারা আসল বিষয় এড়িয়ে যাচ্ছে। প্রধান বিচারপতি কংগ্রেসকে পথ বাতলে দিয়ে বলেছেন যেন পিটিশন ফাইল করা হয়। সেই নির্দেশ মেনেই দল বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জমা দিচ্ছে। রাহুল জানান, এই লড়াই সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই, যা কোনো এক দিনের নয়। দিল্লিকে দুর্গ বানিয়ে ৩০ থেকে ৪০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে, যাদের মধ্যেও অনেকে ব্যক্তিগতভাবে কংগ্রেসের এই লড়াইকে সমর্থন করছেন এবং বলছেন, আপনারা যা করছেন ঠিক করছেন।

সরকারের ওপর রাহুলের গুরুতর অভিযোগ

রাহুল গান্ধী স্পষ্ট করেন যে, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল এবং গৌতম আদানিরা সিইসির ওপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করছেন, যার ফলে সংবিধান বিপন্ন। রাহুল জানান, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর যেমন ইডি, সিবিআই ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্তত দুই শতাধিক কর্মকর্তা নিয়মিত কংগ্রেসের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং সরকারের ভেতরের গোপন তথ্য সরবরাহ করছেন।

আন্দোলনের রূপরেখা ও আরএসএস বিতর্ক

  • পুলিশ ও আরএসএস কর্মীদের মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর অত্যাচারের ভিডিও প্রদর্শন করে রাহুল বলেন, এই লড়াই দীর্ঘ ও কঠিন।
  • নির্বাচন কমিশনে প্রতিবাদ জানাতে বাধা দেওয়া, গ্রেপ্তার এবং যন্তর মন্তরে যেতে না দেওয়ার পর এখন রাজঘাট ও সুপ্রিম কোর্টই তাদের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
  • যত দিন জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেবেন, তত দিন এই আন্দোলন থামবে না বলে ঘোষণা দিয়েছেন রাহুল গান্ধী।
  • বিজেপির ভেতরে যারা এই পরিস্থিতিতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে রাহুল আহ্বান জানান যে, সংবিধান ও দেশ রক্ষার্থে তারাও যেন এই লড়াইয়ে যোগ দেন।
  • সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাহুল বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী তারা কর্মসূচি ঠিক করছেন এবং কোনো আগাম পরিকল্পনা ছাড়াই আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নির্ধারিত হচ্ছে।

About The Author

One thought on “আমি জানি, জ্ঞানেশের ঘুম উড়ে গেছে: রাহুল”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *