তাইজের কৌশলগত সাবির পাহাড়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, বাড়ছে উত্তেজনা
ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত সাবির পাহাড়ের একটি কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে হুথি বিদ্রোহীরা। সামরিক দিক থেকে এই পাহাড়ের অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকে পুরো তাইজ শহর এবং এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা সহজেই পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। পাহাড়ের ওপর হুথিদের শক্তিশালী অবস্থান তাইজ শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের সংকটের মুখে ঠেলে দিতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের সামরিক অবস্থানের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
আল-জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী সানা থেকে ইউসেফ মাওরি জানিয়েছেন যে, তাইজের আশপাশের অঞ্চলে হুথিদের অগ্রযাত্রা রুখতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। কৌশলগত অবস্থানগুলো দখলে নিতে হুথিরা তাদের সামরিক তৎপরতা ও চাপ বৃদ্ধি করেছে। এর আগে হুথিরা মোচা শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিকটবর্তী ধুবাব জেলার নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়েছে। তবে ওই এলাকাগুলোতে এখনো সংঘাত চলছে এবং সৌদি বাহিনীর সহায়তায় সরকারি সৈন্যরা ধুবাব ও বাব আল-মান্দেব প্রণালির কিছু অংশে পাল্টা অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ঘিরে চলমান সংঘাত ইয়েমেন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সাবির পাহাড়ের সবগুলো গুরুত্বপূর্ণ এলাকা যদি হুথিদের দখলে চলে যায়, তবে তাইজ শহরটি হাতছাড়া হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাবে। শহরটি সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে গেলে তা ইয়েমেনের বর্তমান সরকারের জন্য রাজনৈতিক ও সামরিক দিক থেকে বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হবে। তাইজ শহর ঘিরে হুথিদের এই নতুন কৌশলগত চাল সামরিক ভারসাম্যকে বড় ধরনের পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে সাবির পাহাড়ের পুরো অঞ্চল এখন হুথিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে কিংবা শহরটির পতন আসন্ন—এমন কোনো চূড়ান্ত তথ্য এখনো নিশ্চিত নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘর্ষের ধরণ এবং উভয় পক্ষের সামরিক কৌশলের পরিবর্তনের ওপরই সংঘাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে। স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত এই সমরকৌশল তাইজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ইয়েমেনের চলমান গৃহযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলেছে।


As someone who loves fit and tailoring, really well explained — this answered my questions.