কাতারে অবৈধ প্রবাসীদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ও নতুন নির্দেশনা
কাতারে রেসিডেন্সি বা আকামার মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া প্রবাসীদের জন্য বিশেষ সুযোগের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্ট। যারা স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরতে আগ্রহী, তাদের আত্মগোপনে না থেকে বরং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত এক ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তুলে ধরেন কর্তৃপক্ষ। গত বৃহস্পতিবার আয়োজিত একটি ওয়েবিনারে এই বিষয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের ডিটেনশন সেকশনের প্রধান মেজর সৌদ হামাদ আল-বুরাইদি জানান, যেসব প্রবাসীর নামে কোনো ফৌজদারি মামলা বা আইনি জটিলতা নেই, তারা যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করলে নিরাপদে দেশে ফেরার সুযোগ পাবেন। কর্তৃপক্ষের মতে, ডিটেনশন সেন্টার কোনো শাস্তিমূলক জায়গা নয়, বরং এটি দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীদের জন্য একটি সাময়িক আবাসস্থল। এখানে তাদের জন্য ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাদ্য সরবরাহ এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের পূর্ণ সুযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে। আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের নিরাপদে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করা হবে। এটি মূলত দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলাকালে সাময়িক অবস্থানের একটি স্থান, যেখানে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা, সুষম খাবার এবং নিজ নিজ দূতাবাসের সাথে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হয়।
ভিসাসংক্রান্ত আইন অমান্যকারীদের জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে মেজর আল-বুরাইদি জানান, ফ্রি ভিসা বাণিজ্য বা অবৈধ ভিসা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ হাজার কাতারি রিয়াল পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে এক লাখ রিয়াল পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া নির্ধারিত প্রবেশ বা বহির্গমন পথ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের ক্ষেত্রেও একই রকম জেল ও জরিমানার শাস্তি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ছাড়া বেআইনিভাবে দেশে প্রবেশ বা বহির্গমন করলে তিন বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুণতে হবে।
স্পন্সর বা নিয়োগকর্তাদের জন্যও নতুন বার্তা দিয়েছে মন্ত্রণালয়। কোনো কর্মীর আকামার মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা নবায়ন করতে ব্যর্থ হলে নিয়োগকর্তাকে প্রতিটির জন্য ১০ হাজার রিয়াল জরিমানা গুনতে হবে। এছাড়াও ভিসা শর্ত লঙ্ঘন করে অন্যত্র কাজ করা বা কর্মস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অবৈধভাবে অবস্থান করা, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করে অন্যত্র কাজ করা, আকামা নবায়ন না করা এবং কাজ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো বিষয়গুলোতে নিয়মিত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রবাসীদের রেসিডেন্সিসংক্রান্ত যেকোনো জটিলতা নিরসনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট অথবা ইউনিফাইড সার্ভিস সেন্টারগুলোর সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি কোনো বিষয় এসব সেবা কেন্দ্রে সমাধান করা সম্ভব না হয়, তবে তাদের সরাসরি সালওয়া রোডে অবস্থিত সার্চ অ্যান্ড ফলো-আপ ডিপার্টমেন্টের প্রধান কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

