কাতার আমিরের হুশিয়ারি: সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়
আঞ্চলিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের মধ্যেও কাতার নিজস্ব সক্ষমতা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংহতির প্রমাণ দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দোহায় শূরা কাউন্সিলে দেওয়া ভাষণে তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো আপস করা হবে না। আমির বলেন, কয়েক মাসের অস্থিতিশীলতার মধ্যে কাতার ও পুরো অঞ্চলকে ‘অভূতপূর্ব পরিস্থিতির’ মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাকে নতুন করে প্রমাণ করেছে।
সংঘাত ও জ্বালানি সংকটের প্রভাব
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়া উত্তেজনা কাতারেও প্রভাব ফেলেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এ যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি করেছে। যুদ্ধের আবহে ইরান একাধিকবার কাতারে হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসে বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকেন্দ্র রাস লাফান স্থাপনাতেও হামলা হয়। আমির শেখ তামিম জানান, যুদ্ধ শুরুর আগেই নেওয়া দূরদর্শী নীতির কারণে কাতার এ অস্থিতিশীলতার পরিণতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া সম্ভব নয়।
হরমুজ প্রণালিতে নৌনিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান
- হরমুজ প্রণালিতে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে।
- আমির শেখ তামিম সমুদ্রপথের নিরাপত্তা জোরদার এবং জ্বালানি স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষায় আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
- বক্তব্যে তিনি যুদ্ধ বন্ধের গুরুত্বারোপ করে মতবিরোধ শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন।
- তিনি ফিলিস্তিনিদের অধিকারের প্রতি কাতারের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
আঞ্চলিক এই অস্থিরতার মধ্যে কাতারের অবস্থান একদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুত্ব দেয়, অন্যদিকে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরে। জ্বালানি সরবরাহ পথ সচল রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন কাতার সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।

