কোমোর কাছে বিধ্বস্ত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড: ক্যারিকের বিদায় ঘণ্টা?

ইউরোপীয় ফুটবলের মঞ্চে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জন্য এক দুঃস্বপ্নের রাত উপহার দিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। সেস ফেব্রিগাসের শিষ্যদের কাছে ৪-১ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হয়েছে রেড ডেভিলরা। এই লজ্জাজনক পরাজয়ের পর ওল্ড ট্রাফোর্ডের কোচ মাইকেল ক্যারিকের চাকরি নিয়ে শঙ্কা তীব্র হয়েছে। এর আগে আরবি লিপজিগকেও ঠিক একই ব্যবধানে হারিয়ে কোমো তাদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছিল।

ম্যাচ শুরুর মাত্র ১১৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে ইউনাইটেড। এর মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগের টানা দুই ম্যাচে খেলার প্রথম দুই মিনিটের মধ্যে গোল খাওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড গড়ল ইংলিশ ক্লাবটি; আট দিন আগেই তারা অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে প্রথম মিনিটে গোল খেয়েছিল। ২০০৮ সালে ইউনাইটেড যখন শেষবার চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জিতেছিল, তখন কোমো ইতালির চতুর্থ স্তর বা সেরি ডি-তে খেলত। দুই দলের বর্তমান অবস্থানের বিশাল পার্থক্য এই ম্যাচেই ফুটে উঠেছে। দুই ক্লাবের বর্তমান অবস্থানের ব্যবধান কতটা, এই ম্যাচটি ছিল তার এক নিখুঁত ও চরম নিদর্শন।

কোমোর দাপটে প্রথমার্ধেই ব্যাকফুটে চলে যায় ইউনাইটেড। আর্জেন্টাইন প্লেমেকার নিকো পাজ জোড়া গোল করার পাশাপাশি তাসোস ডুভিকাসের গোলে সহায়তা করেন। এরপর জাকোব রামোন দুর্দান্ত হেডার থেকে দলের চতুর্থ গোলটি করেন। এক পর্যায়ে ১৯৬৪ সালে স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে ৫-০ গোলে হারের ক্লাব রেকর্ডটি ভেঙে যাওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোচ ক্যারিক প্রথমার্ধেই ১১০ মিলিয়ন পাউন্ডের দুই সাইনিং—ম্যাথিউস কুনিয়া এবং আন্দ্রেই সান্তোসকে তুলে নেন। দ্বিতীয়ার্ধে অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজকে মাঠ থেকে তুলে জশুয়া জিরকজিকে নামালেও শেষ পর্যন্ত আমাদ দিয়ালোর ক্রস থেকে জিরকজির একটি গোল কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছে। দলের এমন হতশ্রী পারফরম্যান্সে ডাগআউটেও বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন কোচ ক্যারিক। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝপথে মাঠ ছাড়েন দলীয় অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজও, যার পরিবর্তে মাঠে নামেন জশুয়া জিরকজি। ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে বদলি খেলোয়াড় আমাদ দিয়ালোর নিখুঁত ক্রস থেকে অফসাইডের ফাঁদ ভেঙে জিরকজি কেবল ব্যবধানই কমাতে পেরেছেন, যা ম্যাচের হতাশাজনক ফলের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন করতে পারেনি।

ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে থাকা ক্ষুব্ধ দর্শকদের দিকে তাকিয়ে মাইকেল ক্যারিককে বারবার হাত জোড় করে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়। ২০২১ সালের নভেম্বরে ওলে গুনার সোলশার ওয়াটফোর্ডের কাছে ৪-১ গোলে হারার পর এভাবেই বিদায়ের আগে দর্শকদের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সোলশারকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এখন ক্যারিকের ভাগ্যও একই পথে কি না, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে জল্পনা। খেলোয়াড়দের এড়িয়ে বারবার হাত জোড় করে দর্শকদের কাছে তার ক্ষমা চাওয়ার দৃশ্যটি ২০২১ সালের নভেম্বরে ওয়াটফোর্ডের কাছে ৪-১ গোলে হারের পর ওলে গুনার সোলশারের বিদায়ের আগের মুহূর্তগুলোকেই যেন মনে করিয়ে দিল। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে সেই ঘটনায় সোলশারকে ছাঁটাই হতে হয়েছিল, এখন ক্যারিকের ভাগ্যেও একই পরিণতি অপেক্ষা করছে কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *