রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক স্থগিত করলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন করে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা ও বাড়তি শুল্ক কার্যকরের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন। গত ১৬ অক্টোবর শুক্রবার হোয়াইট হাউস থেকে জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রবর্তিত ‘গ্রাহাম রাশিয়া ও ইরান নিষেধাজ্ঞা আইন, ২০২৬’-এর কিছু বিধান আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পেছনে মূলত যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্প ‘লিন্ডসে ও। এ ছাড়া রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তাকারী শীর্ষ পাঁচ দেশের বিরুদ্ধেও শুল্ক আরোপ করা যেত। তবে ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, তিনি বা তার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ না করা পর্যন্ত এ ছাড় কার্যকর থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজেদের সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে রয়েছে তার রিপাবলিকান দল। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক কার্যকর হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারত। এমনিতেই ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির খরচ বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, এই আইনটি পুরোপুরি কার্যকর হলে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ওপর এমন নিষেধাজ্ঞা চাপানো যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার ২০২২ সালের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবেই মার্কিন কংগ্রেসে এই আইনটি আনা হয়েছিল।

নতুন এই আইনে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানিকারী বিশ্বের পাঁচটি বৃহত্তম দেশের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের বিধান রাখা হয়েছিল। আইনের শর্ত অনুযায়ী, এটি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিন পার হওয়ার পরও যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য কেনা অব্যাহত রাখবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ছিল। এই আইনের কঠোরতা নিয়ে চীন ও ভারতসহ রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা দেশগুলো এরই মধ্যে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক কয়েকজন মার্কিন সিনেটর ও আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপকে নমনীয়তা হিসেবে দেখছেন। ভার্জিনিয়ার এক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার মাধ্যমে ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে নতি স্বীকার করেছেন। সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের সিদ্ধান্ত রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ও অর্থনৈতিক শক্তিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করবে। তবুও ট্রাম্প তার অবস্থানে অটল থেকে জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি ছিল। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাহী আদেশের মধ্য দিয়ে আপাতত বড় ধরনের কোনো অর্থনৈতিক সংকটের হাত থেকে রেহাই পেল সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *