৩৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে মডেল সাহারা রে

অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার এবং ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পরলোকগমন করেছেন। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালের বিছানার পাশে উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাহারাকে সবাই গভীরভাবে ভালোবাসতেন এবং জীবনের শেষ মুহূর্তে তিনি স্বজনদের সান্নিধ্য পেয়েছেন। তাঁর মৃত্যুর খবরটি মার্কিন বিনোদনমাধ্যম টিএমজেড প্রথম প্রকাশ করে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেই তিনি কন্যাসন্তান ‘স্নো’-এর মা হয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর শেষ পোস্টে মেয়ের ছবি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আমার পুরো হৃদয়জুড়ে ছোট্ট স্নো।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবশেষ পোস্টটিও ছিল মেয়েকে ঘিরে। সেই পোস্টের তিন মাসের মাথায় মারা গেলেন অস্ট্রেলীয় মডেল, ফ্যাশন ডিজাইনার ও ইনফ্লুয়েন্সার সাহারা রে। রোববার সেই জীবনরক্ষাকারী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় পরিবারকে। সেটিই তাঁর ইনস্টাগ্রাম গ্রিডে শেষ পোস্ট। মৃত্যুর পর সেই ছবিগুলো ঘিরে আবেগঘন মন্তব্য করছেন অনুসারীরা। তবে কৈশোর পেরিয়ে মডেলিং ও ফ্যাশন ডিজাইনের দিকে ঝুঁকে পড়েন।

সাহারা রে’র মৃত্যুর কারণ নিয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পরিবার না দিলেও ব্রিটিশ গণমাধ্যম ডেইলি মেইল ও পেজ সিক্সের প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ফেন্টানিল নামক শক্তিশালী ব্যথানাশক ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে এই প্রাণহানি হতে পারে। গত শুক্রবার রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। যদিও এ ঘটনার আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি এবং এই ওষুধ গ্রহণের বিষয়টি দুর্ঘটনাবশত কি না, সেটিও এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে দাবি করা হয়েছে, ফেন্টানিল নামের শক্তিশালী মাদকজাতীয় ব্যথানাশকের অতিরিক্ত মাত্রা গ্রহণের কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। সন্তান জন্মের আগে ২৫ জানুয়ারি জানিয়েছিলেন, সেদিন রাতেই তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হবে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, মদ্যপ এক গাড়িচালক তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। সেখানে সাহারা জানিয়েছিলেন, মুহূর্তেই তাঁর জীবন বদলে গেছে।

মডেলিং ও ফ্যাশনের পাশাপাশি সাহারা নানা ধরনের শারীরিক জটিলতার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। ২০২৪ সালে তিনি গিয়াঁ-বারে সিনড্রোম নামক এক বিরল স্নায়বিক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি জানান, ওই বছরের এপ্রিলে মদ্যপ এক চালকের গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর তাঁর অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। কোমরের নিচ থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত অনুভূতি ও চলাচলের সক্ষমতা হারিয়ে ফেলায় তাঁকে হুইলচেয়ারের ওপর নির্ভর করতে হতো। মৃত্যুর কয়েক বছর আগ থেকেই তিনি শারীরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি নিজের মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি মনোযোগী ছিলেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি অ্যালকোহল ও মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পেতে ৩০ দিনের একটি পুনর্বাসন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের তথ্য অনুসারীদের জানিয়েছিলেন। গত ১৯ জুলাই ইনস্টাগ্রামে মেয়ের কয়েকটি ছবি পোস্ট করে ভালোবাসার কথা জানিয়েছিলেন সাহারা। মা হওয়ার আনন্দের খবরের পাশাপাশি নিজের উদ্বেগের কথাও অনুসারীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন। তখন হুইলচেয়ার ও হাঁটার সহায়ক সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হতো তাঁকে। ২০২৪ সালের মে মাসে অস্ট্রেলীয় সংবাদমাধ্যম সেভেন নিউজ তাঁর অসুস্থতা ও পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি জানান, মাদক ও অ্যালকোহলনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবু সুস্থ হওয়ার আশা ছাড়তে চাননি তিনি। মাদকাসক্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনের সংকট নিয়েও প্রকাশ্যে কথা বলেছিলেন সাহারা।

সাহারা রে বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় সার্ফার টনি রের কন্যা।

ছোটবেলা থেকেই সমুদ্র ও সার্ফিংয়ের প্রতি ছিল তাঁর গভীর টান। ২০১৪ সালে তিনি নিজের ফ্যাশন ব্র্যান্ড ‘সাহারা রে সুইম’ চালু করেন। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাঁর পরিচিতি তুঙ্গে ওঠে ২০১৬ সালে, যখন হাওয়াইয়ে কানাডীয় পপতারকা জাস্টিন বিবারের সঙ্গে ছুটি কাটানোর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। যদিও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক গুঞ্জন তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তাঁদের সম্পর্কের সত্যতা কেউ কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। এর আগে গায়ক কোডি সিম্পসনের সঙ্গেও তাঁর সম্পর্কের গুঞ্জন উঠেছিল। সাহারার মৃত্যুর পর তাঁর মা গ্রেচেন বাখ জানান, সাহারা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ, সদয় ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একজন মানুষ ছিলেন, যার পৃথিবী জুড়ে ছিল তাঁর পরিবার, ফ্যাশন এবং প্রিয় মেয়ে স্নো।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *