জিম্বাবুয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ
আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করল বাংলাদেশ। শনিবারের এই ম্যাচে জিম্বাবুয়ে প্রথমে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। এই ম্যাচে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দেন তাওহীদ হৃদয়, যা তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৮তম অধিনায়ক হিসেবে অভিষেক ম্যাচ ছিল। এছাড়া চোটের কারণে লিটন দাস দলের বাইরে থাকায় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, শুক্রবার ডান নিতম্বের জয়েন্টে সমস্যার অভিযোগ পাওয়ায় তার এমআরআই করানো হয়েছে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের কাছে প্রথম ম্যাচে ৯৯ রানের বড় ব্যবধানে হেরেছেন তাওহীদ হৃদয়রা। এর আগে গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে ওয়ানডে সিরিজে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেও একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লজ্জার হার দিয়ে শুরু হলো হৃদয়দের। এমআরআই রিপোর্টে এসেছে যে ওর একটু সমস্যা আছে। আজ (শনিবার) তার পরও একটু চেষ্টা করেছিল ফিটনেস টেস্টের, চেষ্টা করছে যে পারা যায় কি না। যতটুকু মানদণ্ড আছে…আমরা যতটুকু চাই, সেটিতে পৌঁছাতে পারেনি। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে (০) ফিরিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের দারুণ শুরু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। দুজনের দেড় শ রানের জুটি জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে নেয়। এই পথে ব্যক্তিগত অর্জনেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেন ৪০ বছর বয়সী টেইলর। ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক অ্যান্ডি ফ্লাওয়ারকে ছাড়িয়ে যান তিনি। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে লড়াই জমাতে পারেনি বাংলাদেশ দল। যদিও উদ্বোধনী জুটিতে ঝোড়ো গতিতে রান তোলেন তানজিদ হাসান। অন্য প্রান্তে দেখেশুনে খেলেন সৌম্য সরকার।
- ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য রানে সাজঘরে ফিরিয়ে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের দারুণ সূচনা এনে দেন পেসার তাসকিন আহমেদ।
- পরের দিকে বেন কারানকে ছয় রানে এবং তাফাদজা সিগাকে ১৬ রানে আউট করে জিম্বাবুয়েকে চাপে ফেলেন এই পেসার।
- তাসকিনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই তিন উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল জিম্বাবুয়ে, তবে শুরুর সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।
- চতুর্থ উইকেটে ক্রেইগ আরভিন এবং ৪০ বছর বয়সী টেইলর জুটি গড়ে দলকে ম্যাচে ফেরান, যেখানে টেইলর ৮১ রান করে সাইফ হাসানের বলে আউট হন এবং একই ওভারে সাইফ জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে চার রানে ফিরিয়ে রান তোলার গতি কমিয়ে দেন।
- সেঞ্চুরির দোরগোড়ায় থাকা ক্রেইগ আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলে শরীফুল ইসলামের বলে আউট হন, যা জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের পথ প্রশস্ত করে দেয়।
- বাংলাদেশ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসানের ৩৮ বলে ৪৬ রান ছাড়া অন্যদের ব্যর্থতায় ১২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে এবং শেষ পর্যন্ত ৩৩.৪ ওভারে ১৭২ রানে ইনিংস শেষ করে।
এই হারের পর বাংলাদেশ দলকে পরবর্তী ম্যাচে বুধবার শারজায় আফগানিস্তানের মুখোমুখি হতে হবে। ফাইনালে যাওয়ার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে পরবর্তী ম্যাচে জয় পাওয়ার পাশাপাশি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের ম্যাচের পারফরম্যান্সের দিকেও নজর রাখতে হবে দলকে। ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে নাজমুল হোসেন ৪, সাইফ হাসান ২৬, মোসাদ্দেক হোসেন ১১ এবং নুরুল হাসান সোহান ৫ রান করে সাজঘরে ফিরে যান। তার পরিবর্তে দলে ডাক পেয়েছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান পারভেজ হোসেন ইমন। এদিকে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ায় খেলতে পারেননি অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজও। এরপর বেন কারান (৬) ও তাফাদজা সিগাকেও (১৬) সাজঘরে ফেরান এই পেসার। ধীরে ধীরে ইনিংসের হাল ধরে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর পাল্টা চাপ তৈরি করেন তারা। তবে অতিরিক্ত সাবধানী হতে গিয়ে ৯ রানে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- সাজঘরে ফেরান এই পেসার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে মাত্র ২৪ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। শুরুতে বাংলাদেশের বোলাররা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেওয়ার ইঙ্গিত দিলেও পরে সেই চাপ ধরে রাখতে পারেনি দলটি। চতুর্থ উইকেট।
- ফিরিয়ে জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি কমান সাইফ। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৭ রান দূরে থাকতে শরীফুল ইসলামের বলে সাজঘরে ফেরেন আরভিন। ১০৬ বলে ৯৩ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। শেষ দিকে অন্য ব্যাটারদের ছোট ছোট অবদানে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ ক।

