টঙ্গীর মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মুসলিম আহম্মেদের (৩০) জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার শুনানি শেষে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত মুসলিম আহম্মেদ টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। ভুক্তভোগী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরিবারের সন্দেহ হয়। মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি পুরো ঘটনাটি খুলে বলে। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। ঘটনার সময় উপস্থিত ব্যক্তিদের বক্তব্যও নেওয়া হয়। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীরাও মারধরের শিকার হন।
এ ঘটনায় ২১ অক্টোবর স্বজনরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। এ সময় স্থানীয়রা শিক্ষককে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। গত বৃহস্পতিবার আদালত শিশুটির জবানবন্দি গ্রহণ করেন এবং শিক্ষককে কারাগারে পাঠান। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন।
এদিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে তারা মাদ্রাসা পরিদর্শন করেছেন এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পুলিশের এই তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিক্ষককে মারধর ও টাকা লুটের পাল্টা অভিযোগ তুলেছে। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের দাবি, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫-১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে শিক্ষককে মারধর করেছে। এ সময় কার্যালয় ভাঙচুর, ৫টি মুঠোফোন ও ১৭ লাখ টাকা লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছে। ‘কিসের চুমু রে’ বলে মাদ্রাসাশিক্ষককে থাপ্পড়ের ভিডিও ভাইরাল, থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ।
পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে শিশুটির বাবা মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, নিজের মেয়ের ওপর ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য তার ছিল না। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পুলিশের পক্ষ থেকে নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসায় হামলার অভিযোগ—উভয় বিষয়ের তদন্ত করা হচ্ছে।

