ঢাকা-রিয়াদ রুটে ৭ ফ্লাইট বাতিল: ভোগান্তিতে আড়াই হাজার যাত্রী
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ধারাবাহিক হামলার জেরে ঢাকা-রিয়াদ রুটে আকাশপথে যোগাযোগ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। শনিবার রাত থেকে রোববার দুপুর পর্যন্ত সাতটি ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে রিয়াদগামী মোট ২ হাজার ৫৩২ জন যাত্রী বিমানবন্দরের টার্মিনালে আটকা পড়েছেন এবং চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেকে চাকরি হারানোর আশঙ্কা করছেন। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার ও শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস, ট্রেন কিংবা ব্যক্তিগত পরিবহনে ঢাকায় এসে বিমানবন্দরে পৌঁছেছিলেন অনেক যাত্রী। সেখানে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর পেয়ে তাঁদের আবারও নতুন করে যাত্রার পরিকল্পনা করতে হচ্ছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের এয়ারপোর্ট সিকিউরিটি ম্যানেজার (ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট) স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব জানান, বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোতে যাত্রীদের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। তিনি বিষয়টিকে একটি ‘বৈশ্বিক সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হতে পারে। যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে যেন তারা দ্রুত নিজ নিজ এয়ারলাইনসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন যাত্রার সময় নিশ্চিত করেন।
বিমানবন্দরের বাইরে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা জানিয়েছেন, সময়ের সঠিক তথ্য না পাওয়ায় তাদের দুর্গতি বেড়েছে। রিয়াদপ্রবাসী যাত্রী শাহ আলম আক্ষেপ করে বলেন, ‘চাকরির প্রয়োজনে রিয়াদে যাওয়ার জন্য আমি বিমানের টিকিট কেটে আগস্ট মাসে দেশে আসি। এখন ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় আমি অত্যন্ত দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছি।’ একই ধরনের উদ্বেগের কথা জানান শরীফ উদ্দিন নামের আরেক যাত্রী। তিনি জানান, তাকে ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু রিয়াদের বর্তমান পরিস্থিতিতে তার বিকল্প গন্তব্য বা ফ্লাইটের সময়সূচী নিয়ে এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকে কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যাচ্ছে না। কেউ টিকিট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে নিয়ে এয়ারলাইনসের কাউন্টারে খোঁজ নিচ্ছেন, কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোনে কথা বলে পরবর্তী করণীয় জানার চেষ্টা করছেন।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত এক সপ্তাহে অন্তত চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে গত শনিবার মধ্যরাতে হওয়া হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নিহত ও আহতদের তালিকায় বাংলাদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি মিসর, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সুদান, সিরিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া, গত বৃহস্পতিবারের অপর একটি হামলায় একজন পাইলটসহ তিন সৌদি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। তাঁদের বড় অংশই সৌদি আরবের কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি। পাশাপাশি নতুন করে টিকিটের তারিখ পরিবর্তন, যাতায়াত ও থাকা-খাওয়ার খরচ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগী যাত্রীরা মনে করছেন, এয়ারলাইনসগুলোকে দ্রুত ও কার্যকরী যোগাযোগের মাধ্যমে যাত্রীদের টিকিট পুনর্নির্ধারণ এবং বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থার বিষয়টি নিশ্চিত করা এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। বর্তমান অস্থির পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই বৈশ্বিক সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন বলে ভুক্তভোগীরা মনে করছেন।

