মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পকে কঠোর সমালোচনা করলেন বারাক ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র ১০ দিন বাকি। এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ের ঠিক আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। স্থানীয় সময় শনিবার (২৪ অক্টোবর) ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড ও মিশিগানের ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্নীতি, ইরাননীতি এবং হোয়াইট হাউসের সংস্কারের অভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। আসন্ন নির্বাচনে এই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে টানতে চাইছে দলটি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হোয়াইট হাউসের সংস্কারকাজের নকশা নিয়েও কটাক্ষ করেন তিনি।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের প্রচারে ওবামা বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তিনি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্বার্থে সরকারি ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ আনেন এবং বর্তমান প্রশাসনকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও অকার্যকর হিসেবে অভিহিত করেন। ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ওবামা ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলেন, সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আমাদের এই ব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। এ নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির ওপর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন ওবামা।

ওবামা এ সময় ট্রাম্পের ইরাননীতির ব্যর্থতা নিয়েও সরব ছিলেন। তার দাবি, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের বিপরীতে সংঘাত বরং দেশটির অর্থনৈতিক প্রভাব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনের পথে ইরানের কার্যত ভেটো ক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া ওবামা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে বিদ্রূপ করে বলেন যে, তিনি সেনাদের চোয়ালের গঠন বা টেস্টোস্টেরনের মাত্রার মতো অপ্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে অতিরিক্ত ব্যস্ত রয়েছেন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার হুমকি বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের সংঘাত নিয়েও গত আগস্টে রয়টার্স ও ইপসোসের এক জরিপে উদ্বেগ প্রকাশ পায়। জরিপে দেখা যায়, ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন ট্রাম্প এবং তার পরিবার ক্রিপ্টোকারেন্সি থেকে অনুচিতভাবে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। এছাড়া ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারীর ধারণা, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের নেওয়া সিদ্ধান্তে তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থের প্রভাব স্পষ্ট। এসব সমালোচনার মধ্য দিয়ে ওবামা নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটদের জন্য জনমত তৈরির চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, ৬৯ শতাংশের ধারণা, ট্রাম্পের নীতিগত সিদ্ধান্তে তার ব্যক্তিগত ব্যবসায়িক স্বার্থ প্রভাব ফেলে। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এখনো তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। তার ভাষায়, জনগণের অর্থে এমন প্রকাশ্য সুবিধা আদায়ে কোনো প্রেসিডেন্টকে এতটা দক্ষ হতে দেখিনি।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *