মাদারীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে সংঘর্ষ, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগ
মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহেরান্দী গ্রামে মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের বিরোধ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত চলা এই সংঘাতময় পরিস্থিতিতে অন্তত সাতটি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং প্রায় ৪০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এলাকাটিতে বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের কমিটি গঠন করা হয়, যেখানে মোশাররফ ফকিরকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। কিন্তু এই কমিটি মেনে নিতে পারেননি বাচ্চু মোড়ল। তিনি সভাপতি হওয়ার দাবি জানালে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জের ধরে বুধবার ভোরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাচ্চু মোড়লের সমর্থকরা মাতুব্বরবাড়ি, সর্দারবাড়ি ও ফকিরবাড়িতে অতর্কিত হামলা চালান। কিন্তু এর বিরোধিতা করেন একই এলাকার বাচ্চু মোড়ল। এরই জেরে বুধবার ভোরে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ শতাধিক লোক নিয়ে বাচ্চু মোড়লের কর্মী-সমর্থকেরা মাতুব্বরবাড়ি, সর্দারবাড়ি ও ফকিরবাড়িতে হামলা চালান। অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী এমদাদ মাতুব্বর জানান, বাচ্চু মোড়লের নেতৃত্বে এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে, যা তিনটি গ্রামকে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে। হামলায় মিনজাল জমাদ্দার, রবিউল মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, বোরহান মাতুব্বর ও এমদাদ মাতুব্বরসহ সাতজনের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য জাহিদ হাওলাদার আক্ষেপ করে বলেন, তুচ্ছ কমিটি নিয়ে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটবে তা কারও ধারণায় ছিল না। ঘটনার পর থেকেই বাচ্চু মোড়ল ও তার সঙ্গীরা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছেন। এ সময় মিনজাল জমাদ্দার, রবিউল মাতুব্বর, ফারুক মাতুব্বর, বোরহান মাতুব্বর ও এমদাদ মাতুব্বরসহ ৭ জনের ঘরে আগুন দেওয়া হয়। পুরো তিনটি গ্রাম যেন ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কামাল আজাদ জানিয়েছেন, মসজিদ কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই সহিংসতা হয়েছে। খবর পাওয়ার পর অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ৪০ রাউন্ড রবার বুলেট ছুড়তে বাধ্য হন। ওসি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ৪০ থেকে ৫০টি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে।

