মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সুরক্ষা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান এমজেএফ-এর
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের যৌন নির্যাতন ও হয়রানির সাম্প্রতিক খবরগুলোতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন (এমজেএফ)। আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, গাজীপুর, টঙ্গী, সাভার ও কুষ্টিয়াসহ দেশের নানা প্রান্তের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের নির্যাতনের যে চিত্র গণমাধ্যমে উঠে এসেছে, তা কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; প্রকৃত ঘটনার সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে সংস্থাটির আশঙ্কা। ভুক্তভোগী শিশুদের ওপর চাপ, সামাজিক লজ্জা কিংবা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো বিষয়গুলোকেও অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে চিহ্নিত করেছে এমজেএফ। এসব ঘটনার পাশাপাশি অভিযোগ জানাতে বাধা দেওয়া ও ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়ও উদ্বেগজনক।
এমজেএফ-এর নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, প্রতিটি শিশুর নিরাপদ ও স্নেহময় পরিবেশে বেড়ে ওঠার অধিকার রয়েছে।
সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে অভিভাবকরা তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। কিন্তু দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছ থেকে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো শিশু নির্যাতনের শিকার হলে তা নির্ভয়ে জানানোর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। মা-বাবাকেও উৎসাহিত করতে হবে যাতে তারা সন্তানের অভিযোগ গুরুত্বের সাথে শোনেন এবং তাদের আইনি ও মানসিক সহায়তা প্রদানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। অভিযোগের কারণে শিশুকে যেন উল্টো দোষারোপ বা ভয় দেখানো না হয়, তা নিশ্চিত করা জরুরি। মা–বাবা তাঁদের সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান এই বিশ্বাস নিয়ে যে সেখানে তারা শিখবে, নিজেদের বিকশিত করবে এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়বে। যাঁদের দায়িত্ব শিশুদের যত্ন নেওয়া ও শিক্ষা দেওয়া, তাঁদের কাছ থেকে কোনো শিশুর ভয় পাওয়ার কথা নয়।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়েছে যে, প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। নির্যাতনের শিকার শিশুদের জন্য যথাযথ চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা এবং তাদের গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা নিশ্চিত করার ওপরও সংস্থাটি গুরুত্বারোপ করেছে। এমজেএফ মনে করে, সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। প্রতিটি শিশুকে এমন একটি পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে যেখানে নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত থাকবে।
দীর্ঘদিন ধরে শিশু সুরক্ষা নিয়ে কাজ করা এই সংস্থাটি ২০০৯ সালের হাইকোর্টের ঐতিহাসিক নির্দেশনা এবং পরবর্তী সব আইনি নজির মেনে দেশের প্রতিটি মাদ্রাসাসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন ও তা কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে। একই সাথে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনকে শিশু সুরক্ষার বিষয়ে কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কোনো শিশুকে যেন শিক্ষার অধিকার আর নিরাপত্তার মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে না হয়, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে এমজেএফ।

