সাঈদীর মামলার সাক্ষীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বললেন মাসুদ সাঈদী
পিরোজপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, যা স্থানীয় জনগণ ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য অসম্মানজনক ছিল। তার দাফন বা জানাজায় জনগণের কোনো বাধা ছিল না, তবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদানে স্থানীয়রা তীব্র আপত্তি জানান। “কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি ‘গেজেটপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
মাসুদ সাঈদী জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাঈদীর বিরুদ্ধে বিতর্কিত ও মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া মানিক পশারী শনিবার গোপালগঞ্জের একটি হাসপাতালে মারা যান।
পিরোজপুরে তার মরদেহে গার্ড অব অনার প্রদানের সরকারি উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তিনি নিজে এবং জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীরা বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি ও পিরোজপুর প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখেন। জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করে শান্তি বজায় রাখার প্রচেষ্টা চালানো হলেও বিষয়টি সাধারণ মানুষের জন্য চরম ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য আমি আমার অবস্থান থেকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলগত অবস্থান থেকে উভয়ে একযোগে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বরাবরই নিয়ন্ত্রণে ছিল, তবে জনগণের ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ সত্যিই খুব কঠিন ছিল।”।
তিনি দাবি করেন, মানিক পশারী যে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন, তা ট্রাইব্যুনালের জেরার সময় নিজেই স্বীকার করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের আইনজীবীর প্রশ্নের জবাবে মানিক বলেছিলেন, তিনি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি, বরং মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছেন। ওই সময় তিনি আরও জানান, তৎকালীন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়াল মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করে তাকে একটি ডিও লেটার দিয়েছিলেন। মাসুদ সাঈদীর ভাষ্যমতে, মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার পুরস্কার হিসেবেই মানিক পশারীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তখন সে স্পষ্ট করেই বলেছিল, ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করিনি। ট্রাইবুনালে তার বক্তব্য আমি এখানে হুবহু তুলে ধরছি— ‘আমি সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই, তবে সহযোগিতা করেছি।
সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মানিক পশারীকে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং অবৈধভাবে ভাতা পাইয়ে দেওয়ার পেছনে তৎকালীন যাচাই-বাছাই কমিটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায় রয়েছে। এসব কর্মকর্তাকে দ্রুত খুঁজে বের করে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের দায়ে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন। এছাড়া, সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম এ আউয়ালের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।
পোস্টের শেষে তিনি বলেন, মানিক পশারীর নাম অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধাদের গেজেট থেকে বাতিল করতে হবে এবং এ পর্যন্ত গৃহীত সমস্ত রাষ্ট্রীয় সুবিধা ও ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। মিথ্যা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কেউ মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কলঙ্কিত করতে পারে না উল্লেখ করে তিনি জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া, জনগণের ধৈর্য ধারণের প্রশংসা করে তিনি বলেন, অতীতে যা হয়েছে তা বর্তমান সময়ে যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। আমরা জনগণকে শান্ত করেছি, ধৈর্য ধারণ করতে বলেছি। অতীতে আওয়ামী লীগ যেসব অন্যায় করেছে সেসব অন্যায় কোনোভাবেই যেন আমাদের দ্বারা না হয় সে বিষয়ে জনগণকে বুঝিয়েছি। তিনি বলেন, এ ঘটনাটি দেশের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগের অপমান ও মহান স্বাধীনতার অবমাননা এবং দেশের আইনি ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি চরম এক উপহাস বলে মনে করছি।

