ট্রাম্প: ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে নতুন করে সামরিক অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য এই অভিযানের সময়সীমা নিয়ে কথা বলেন তিনি। হামলা কবে নাগাদ শুরু হতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানান, প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, ‘ইরানিরা চুক্তি চায়। তবে এ বক্তব্যের সমর্থনে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। সামরিক অভিযান হোক বা চুক্তি—যেভাবেই হোক, আমরা জিতব।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ইরান বর্তমানে একটি চুক্তিতে আগ্রহী। তবে তার প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ থেকে সম্পূর্ণভাবে বিরত রাখা। ট্রাম্পের দাবি, গত বছরের জুন মাসে বি-২ বোমারু বিমান ব্যবহার করে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যে হামলা চালানো হয়েছিল, তা কতটুকু কার্যকর ছিল তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়। তাই চলতি বছর পুনরায় হামলার সিদ্ধান্ত না নিলে দেশটিকে পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব হতো কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে যায়। গত কয়েক দিন ধরেই ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান চুক্তিতে আগ্রহী হলেও সেটি মেনে চলার বিষয়ে দেশটির প্রতিশ্রুতি নিয়ে সংশয় রয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, তারা চুক্তির শর্ত পালনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে পারবে কি না।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, বাণিজ্য রুটটিতে পরিস্থিতি অনেকটা যুদ্ধ শুরুর আগের মতোই রয়েছে। এই সংকট নিরসনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়ে তিনি যোগ করেন, প্রয়োজনে তাকেই এই কাজটি সম্পন্ন করতে হতে পারে। মূলত পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা রোধে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবেই ট্রাম্প এই নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনাটি সামনে এনেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। আনাদোলু এজেন্সির তথ্যের বরাতে এসব বিষয় উঠে এসেছে। তবে তেহরান ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে ‘বড় চুক্তিতে’ রাজি হলে সামরিক পদক্ষেপ এড়ানোর সুযোগও রয়েছে।

