সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদের প্রশাসকরা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও জেলা পরিষদের দায়িত্বে থাকা কোনো প্রশাসকই প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। শনিবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক পথসভায় তিনি এই দাবি জানান। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের রাজনীতিকরণ—এই চার ইস্যুর প্রতিবাদে আগামী ৩০ অক্টোবর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে এনসিপি। সেই কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যেই ওই লিফলেট বিতরণ ও পথসভার আয়োজন করা হয়েছিল। তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কোনোভাবেই স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
নির্বাচন প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ঢাকা দক্ষিণের অবৈধ প্রশাসককে বিএনপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি পদে থেকে কেন প্রশাসকরা নির্বাচনে অংশ নেবেন? এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তিনি। নাহিদ ইসলাম হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসকদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। এই প্রশাসকেরা কেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।
বর্তমান জাতীয় সংসদের কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর পর যে নির্বাচন হয়েছে, বর্তমান সংসদের গুরুত্ব এখন আর দুই আনাও নেই। সংসদে বিরোধী মতের কোনো মূল্যায়ন না থাকায় এই সংসদ পাঁচ বছর টিকে থাকবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সন্দেহ প্রকাশ করেন এনসিপি আহ্বায়ক। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীকে পদত্যাগের আহ্বান জানান তিনি। মন্ত্রীদ্বয়ের পদত্যাগ ছাড়া দেশে শৃঙ্খলা ফিরবে না বলে মন্তব্য করেন নাহিদ ইসলাম।
সংবিধান সংশোধন কমিটির কার্যক্রমকেও তিনি ‘নাটক ও প্রহসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এই কমিটিকে জনগণ ইতিমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে। সংবিধান সংশোধনের পরিবর্তে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠনের দাবি জানান তিনি। পথসভায় এনসিপির ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য আলী আহসান জুনায়েদসহ দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এই কমিটিকে জনগণ এরই মধ্যে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করেছে।

