ের উত্তর: এল ক্লাসিকোর ফল ঠিক করে দিতে পারে যে পাঁচ
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথ এল ক্লাসিকোর মঞ্চ আবারও প্রস্তুত। কত স্মৃতি জমা করে রাখে মনের অ্যালবামে। তবে স্মৃতির আগুন একেবারে নিভেও যায়নি। ফুটবল কখনো কখনো অদ্ভুত বৃত্ত তৈরি করে।
আগামীকাল রাতে ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ।
লা লিগার পয়েন্ট তালিকায় ৯ ম্যাচে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে বার্সা। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ২১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের জন্য এই ম্যাচটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। হারলে বার্সার সাথে তাদের ব্যবধান বেড়ে ৯ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে, যা শিরোপার লড়াইয়ে বড় প্রভাব ফেলবে। মনে আছে ২০১১ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপ। বার্সা সেই ম্যাচ হারলেও রাফিনিয়ার বিশ্বাসে চিড় ধরেনি।
ম্যাচটির ফলাফলে রাফিনিয়ার প্রভাব বেশ বড় হতে পারে। এই ব্রাজিলিয়ান তারকা সর্বশেষ খেলেছেন এমন ছয়টি এল ক্লাসিকোর প্রতিটিতেই বার্সেলোনা জয়ী হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি ৭টি গোল করেছেন এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১০ ম্যাচে ১৪ গোল করেছেন রাফিনিয়া, যার মধ্যে লিগের ৮ ম্যাচে ১২ গোল নিয়ে তিনি এখন সর্বোচ্চ গোলদাতা। তার এই দুরন্ত ফর্ম রিয়ালের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে। মেসির বাঁ পায়ের জাদু, রোনালদোর দুরন্ত গতি। নিজে করেছেন ৭ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট। পরে রিয়ালের দায়িত্ব নিয়ে সেই বার্সেলোনারই সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে উঠেছিলেন।
দুই দলের কোচের মধ্যকার লড়াই এবারের ক্লাসিকোর আরেকটি মূল আকর্ষণ। রিয়ালের ডাগআউটে ফিরেছেন জোসে মরিনিও, যার ক্যারিয়ারে এল ক্লাসিকোর অভিজ্ঞতা বেশ দীর্ঘ। প্রথম দফায় ১৭ ম্যাচে ৫ জয় ও ৬ ড্রয়ের রেকর্ড থাকা মরিনিও টানা পাঁচ ক্লাসিকোয় অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েছিলেন। অন্যদিকে বার্সেলোনার দায়িত্বে থাকা হান্সি ফ্লিক কোচ হিসেবে সাত ম্যাচে ছয়বার জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। তাদের কৌশলগত ও ব্যক্তিত্বের এই লড়াই মাঠের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকখানি। সঙ্গে পেপ গার্দিওলা আর জোসে মরিনিওর মস্তিষ্কের যুদ্ধ। প্রধান কোচ হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়নি। মরিনিওর সামনে বিপর্যয় এড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ২০১৩ সালে রিয়াল ছাড়ার আগে টানা পাঁচ ক্লাসিকোয় অপরাজিত ছিলেন। বার্সার সহকারী কোচ তিতো ভিয়ানোভার চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন মরিনিও। কিন্তু মরিনিওর ভেতরের আগুন কি এত সহজে নেভে।
বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু কি এবারও তাদের জন্য দুর্ভেদ্য থাকবে? পরিসংখ্যানে বার্সেলোনা ঘরের মাঠে টানা ২৩ লিগ ম্যাচ জয়ের ধারায় আছে এবং চলতি মৌসুমে নিজেদের উঠোনে ৫ ম্যাচে ২২ গোল করেছে। তবে ইতিহাস বলছে ভিন্ন কথা, বার্সেলোনার মাঠে গত ছয় লিগ ম্যাচের তিনটিতেই জয় পেয়েছে রিয়াল। তাই রিয়ালের জন্য এই স্টেডিয়ামটি পুরোপুরি দুঃস্বপ্ন নয়, যদিও তাদের অ্যাওয়ে ফর্মে কিছুটা অস্থিরতা রয়েছে। একসময় লিওনেল মেসি আর ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো মাঠে নামতেন। গত মৌসুমে ১৯ ম্যাচের সব কটিতে জিতেছে। নিজের উঠোনে বার্সেলোনা যেন অজেয় এক দল।
বার্সেলোনার রক্ষণভাগ লিগে ম্যাচপ্রতি মাত্র ৬.৮টি শট হজম করলেও, তাদের প্রতি শটের বিপরীতে গোল পাওয়ার সম্ভাবনা বা এক্সজি (xG) মান বেশ উঁচুতে। জুলস কুন্দের অনুপস্থিতিতে এই দুর্বলতা কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে কিলিয়ান এমবাপ্পের সামনে। বার্সার বিপক্ষে ছয় ম্যাচে ছয় গোল করা এমবাপ্পে গড়ে প্রতি ৭৫ মিনিটে একটি করে গোল আদায় করেছেন। তার সাথে জুড বেলিংহামের উপস্থিতি রিয়ালের আক্রমণভাগকে পূর্ণ শক্তি দিচ্ছে। নতুন যুগে লামিনে ইয়ামাল আর কিলিয়ান এমবাপ্পে। হান্সি ফ্লিকের সামনে প্রতিদ্বন্দ্বীকে অনেকটা পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ। পরিসংখ্যান কখনো কখনো ফুটবলের ভবিষ্যৎ বলে দেওয়ার চেষ্টা করে। চোট কাটিয়ে পিএসজির বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেছেন। অর্থাৎ ম্যাচপ্রতি ৪টির বেশি।
এল ক্লাসিকোর ঐতিহাসিক পরিসংখ্যানে দুই দলের জয় এখন ১০৬টি করে। ড্র হয়েছে ৫২টি ম্যাচে। গোল করার তালিকায় রিয়াল ৪৪৪টি গোল নিয়ে কিছুটা এগিয়ে, বার্সার গোল ৪৪১টি। চলতি লিগে টানা ৯টি জয়ের মাধ্যমে ১৯৬৮–৬৯ মৌসুমে মিগুয়েল মুনোজের রিয়ালের গড়া সেরা শুরুর রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে বার্সা। এই ম্যাচে জয় পেলে তারা এককভাবে নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
ম্যাচটিকে ঘিরে রিয়াল মাদ্রিদের ড্রেসিংরুমের পরিবেশ নিয়েও আলোচনা চলছে। অরেলিয়েন চুয়ামেনি জানিয়েছেন, ভালভের্দের সঙ্গে কোনো মারামারি হয়নি, তবে ড্রেসিংরুমে ‘অপ্রীতিকর’ কোনো ঘটনা ঘটেছিল। ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও ইয়ান দিওমান্দের মতো তরুণ খেলোয়াড়রা নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছেন। সব মিলিয়ে এল ক্লাসিকোর এই লড়াইয়ে নতুন যুগের প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর পুরনো ইতিহাসের সমীকরণ মিলে এক রোমাঞ্চকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা সবে ডালপালা মেলছে। এই মহারণের আগে পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা চলছে ফুটবল–বিশ্বে।

