ে জামায়াতের নিন্দা |: সাংবাদিক রিপনকে নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঘটনায় ও চাঁদা
গাজীপুর জেলায় কর্মরত দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি মহিন উদ্দিন রিপনকে অপহরণ, শারীরিক নিপীড়ন, বিবস্ত্র করে আপত্তিকর ভিডিও ধারণ ও তার কাছে বিপুল অংকের চাঁদা দাবির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই জঘন্য অপরাধের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের পাশবিক নির্যাতন কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না। বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, একজন সাংবাদিককে অপহরণ, শারীরিকভাবে নির্যাতন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং আপত্তিকর ভিডিও ধারণের মাধ্যমে মুক্তিপণ আদায়ের যে অভিযোগ উঠেছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগ
ভুক্তভোগী সাংবাদিকের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াতের এই নেতা জানান, রিপনকে অপহরণের পর অপরাধীরা তার কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে। বিশেষ করে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন না করার জন্য তাকে নানাভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী ও অত্যন্ত নিন্দনীয়। সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার জন্য এমন ঘৃণ্য পন্থা অবলম্বন করা চরম আইনশৃঙ্খলার অবনতির লক্ষণ। এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, সাংবাদিকরা যখন দুর্নীতি ও অনাচারের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন, তখন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রেরই প্রধান দায়বদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান
- অবিলম্বে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
- নির্যাতনের শিকার সাংবাদিক মহিন উদ্দিন রিপনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
- ধারণকৃত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া রোধে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।
- সাংবাদিকদের ওপর ভয়ভীতি ও নির্যাতন চালানোর অপচেষ্টা চিরতরে বন্ধ করতে হবে।
বিবৃতির শেষভাগে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই ঘটনার স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।
দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগী সাংবাদিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে তিনি উল্লেখ করেন, সাংবাদিকরা যদি তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিরাপদ বোধ না করেন, তবে তা পুরো সমাজের জন্যই অশনিসংকেত। রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সাংবাদিক নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে যাতে কেউ পুনরায় এমন জঘন্য কর্মকা-ের সাহস না পায়। জামায়াতে ইসলামী এই ঘটনার বিচার না হওয়া পর্যন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সোচ্চার থাকবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা রক্ষা এবং সাংবাদিকদের অবাধ কর্মপরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে যথাযথ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলারও জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।

