ইসরায়েলের ভাগ্য নির্ধারণে আজ পার্লামেন্ট নির্বাচন
গাজায় চলা ধ্বংসযজ্ঞ, ফিলিস্তিনিদের বাস্তুচ্যুতি এবং বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে থাকা দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই আজ মঙ্গলবার ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থাকা নেতানিয়াহুর ভাগ্য আজ ব্যালটেই নির্ধারিত হবে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের হামলার পর এটিই প্রথম নির্বাচন, যেখানে নিরাপত্তাব্যবস্থা ও গোয়েন্দা ব্যর্থতার দায় এবং এ বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি ভোটারদের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের জন্য প্রায় ৭৩ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০ আসনে ভোট হচ্ছে।
দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থা অনুযায়ী, ভোটাররা সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করেন না, বরং পছন্দের দলকে ভোট দেন। নেসেটে প্রবেশের জন্য একটি দলকে অন্তত ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ভোট পেতে হয়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের জন্য কোনো দলের প্রয়োজন ৬১ আসন। লিকুদ দলের নেতা নেতানিয়াহু এবারও ডানপন্থী ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদী জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁর সরকারে বর্তমানে কট্টর ডানপন্থী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোত্রিচ গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। এছাড়া শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম দলকেও তাঁর মিত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির প্রধান দুই নির্বাচনী জোটের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন বণ্টন হয়। নেতানিয়াহু দায় নিতে অস্বীকৃতি জানালেও বিরোধীরা জবাবদিহি চাইছেন।
অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরে রয়েছে ইয়াশার, টুগেদার, ইসরায়েল বেইতেনু ও ডেমোক্র্যাটস দলগুলো। বিরোধী পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকট, নাফতালি বেনেট এবং ইয়ার লাপিদের নাম আলোচনায় রয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপ বলছে, কোনো জোটেরই এককভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা কম। নেতানিয়াহুর শিবির ৫৩টি এবং বিরোধী শিবির ৫২টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় ইসরায়েলের আরব নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে অধিকাংশ বিরোধী নেতা আরব দলের সঙ্গে জোট গড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন। এ শিবির জিতলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ সরকারপ্রধান হওয়ার দাবিদার। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের গত শুক্রবারের এক জরিপের তথ্যমতে, লিকুদ ও ইয়াশার ২২টি করে, টুগেদার ১৪টি এবং ডেমোক্র্যাটস ও জয়েন্ট লিস্ট ৯টি করে আসন পেতে পারে। এ হিসাবে নেতানিয়াহুর শিবিরের ৫৩ এবং বিরোধী শিবিরের ৫২টি করে আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে পুনরায় নির্বাচনের ঝুঁকি থাকবে এবং সে পর্যন্ত নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। ছয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী থাকা নেতানিয়াহুর জন্য এটি সপ্তম মেয়াদ পাওয়ার লড়াই। তবে গাজার বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মোহাম্মদ ইলিয়ান আল-জাজিরাকে বলেছেন, সরকার বদলালেও ইসরায়েলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের আশা নেই, যদিও তিনি নেতানিয়াহুর পরাজয় কামনা করেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতিসহ রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্কের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোও নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে বড় উত্তেজনার কারণ হয়েছে। তবে ইসরায়েলের নেতৃত্ব বদলালেই ফিলিস্তিনিদের জীবনে স্বস্তি ফিরবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের একটি তালিকা প্রকাশ করে।

