এমবাপ্পের জোড়ায় উড়ন্ত বার্সেলোনাকে থামাল রিয়াল মাদ্রিদ

লা লিগায় টানা নয় ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ছুঁয়ে দারুণ ছন্দে থাকা বার্সেলোনাকে থামিয়ে দিল রিয়াল মাদ্রিদ। এল ক্লাসিকোর মহারণে রিয়াল ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে। পুরো ম্যাচে আধিপত্য ধরে রেখে রিয়াল মাদ্রিদ প্রমাণ করেছে, মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তারা কতটা বিধ্বংসী। টানা ৯ ম্যাচ জিতে লা লিগার সর্বকালের রেকর্ডও ছুঁয়ে ফেলেছিল। সেই রিয়াল যারা একটু দেরিতে হলেও ফর্ম ফিরে পেয়েছিল এল ক্লাসিকোর ঠিক আগে। বার্সেলোনাকে মাটিতে নামিয়ে আনল সেই রিয়ালই। দুটো গোলের কোনোটিকেই ধারার বিপরীতে মনে হয়নি।

ম্যাচের ৪১ মিনিটে বার্সার রক্ষণভাগের ভুলে রিয়াল প্রথম গোলের দেখা পায়। ইয়ান দিওমান্দের দেওয়া ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে জেরার্দ মার্তিন ভুল পথে বল বাড়িয়ে দেন, যা বক্সে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। প্রথমার্ধের শেষদিকে বার্সেলোনার লামিন ইয়ামাল গোল শোধের দারুণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি; লুনিনের সামনে থেকেও তার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে স্কোরলাইনটা যেন ম্যাচের আসল চিত্রটাকে ঠিকঠাক তুলে ধরতে পারছে না। ওদিকে বার্সা পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে খুবই কম। লামিন ইয়ামালকে বোতলবন্দি করে রেখেছিলেন মার্ক কুকুরেয়া, সে চক্রব্যূহ ভাঙার সুযোগ যেই না একবার পেয়েছিলেন, ব্যর্থ হয়েছেন বাজেভাবে। তাতে বার্সা রক্ষণের দায়টাই যেন বেশি। তিনি সেটা ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন মাঠের ভেতরের দিকে। তবে তিনি কাছের পোস্টে শট নিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। আর তাতে বেলিংহাম যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন কিছুটা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জুড বেলিংহাম ব্যবধান বাড়ানোর সহজ সুযোগ নষ্ট করেন। এর কিছুক্ষণ পরই, ৬১ মিনিটে পেদ্রির বাড়ানো বলে রাফিনিয়া গোল করে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান। বেলিংহামের পায়ের ফাঁক গলে যাওয়া বলটি লুনিনের হাত ছুঁয়ে জালে জড়ালে বার্সেলোনা ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই উত্তেজনা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। বার্সার মাঠে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দাপট দেখিয়েছে সফরকারী রিয়ালই। ৬১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে পেদ্রি বল বাড়ান বক্সে থাকা রাফিনিয়াকে। এই গোলের আগ পর্যন্ত বার্সেলোনা নিজেদের ছায়া হয়ে ছিল। পেদ্রি একের পর এক মিসপাসে বল হারাচ্ছিলেন, ইয়ামালও হাঁটছিলেন একই পথে। বক্সের ভেতরে অনেকটাই ফাঁকায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন, সামনে ছিলেন শুধুই আন্দ্রিই লুনিন। শেষমেশ তা বেরিয়ে যায় লক্ষ্যের বাইরে দিয়ে। জুড বেলিংহাম কাউন্টার অ্যাটাকে উঠে এসেছিলেন তার সামনে ছিলেন শুধুই মার্তিন, পাশে ছিলেন এমবাপ্পে, পাস দিলেই খেলা শেষ। এরপর গোল যে হলো বার্সার, তাতেও বেলিংহামের ‘অবদান’ ছিল বেশ।

নির্ধারিত সময়ের মাত্র তিন মিনিট বাকি থাকতে রিয়াল জয়সূচক গোলটি পায়। মাঝমাঠ থেকে বেলিংহামের দুর্দান্ত ড্রিবলিংয়ের পর কামাভিঙ্গা বল দেন এমবাপ্পেকে, যিনি নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এবং দলের জয় নিশ্চিত করেন। শেষদিকে বালদে ও আদেয়েমিকে ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হলেও ম্যাচের ফলে কোনো পরিবর্তন আসেনি। এই জয়ে উড়তে থাকা বার্সার সাফল্যের রথ থামিয়ে দিল রিয়াল। বার্সেলোনা গোলের সুযোগ তৈরি করতেই হিমশিম খাচ্ছিল, ঠিক তখন নির্ধারিত সময়ের ৩ মিনিট বাকি থাকতে গোল হজমের পর ম্যাচের আর কিছু বাকি থাকে না।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *