যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী তহবিলে ২৭৭ কোটি ডলার অনুদান: এগিয়ে রিপাবলিকানপন্থিরা

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রচারণায় বড় অঙ্কের অর্থের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে।

ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত শীর্ষ ৫০ জন দাতা ও প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে ২৭৭ কোটি ডলারের অনুদান দিয়েছে। ৩ নভেম্বরের ভোট সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল নির্বাচন কমিশনের (এফইসি) তথ্য বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে বড় অনুদানদাতা ব্যক্তি, অর্থলগ্নিকারী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচয় তুলে ধরেছে আল-জাজিরা। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৫-২৬ নির্বাচনী চক্রে একজন ব্যক্তি ফেডারেল পর্যায়ের কোনো প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে প্রতি নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৫০০ ডলার অনুদান দিতে পারেন। তাদের নিজস্ব অর্থদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে অর্থের প্রভাব নিয়ে আল-জাজিরার ‘লেটস ফোকাস’ অনুষ্ঠানে সাবেক ফেডারেল নির্বাচন কমিশন চেয়ারম্যান ব্র্যাডলি স্মিথের সঙ্গে বিতর্কে লেসিগ বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের কাছে অর্থের উৎস অন্ধকারে থাকে না। ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান সাসকুয়েহানা ইন্টারন্যাশনাল গ্রুপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেফ ইয়াস।

এই বিশাল অর্থের মাধ্যমে মার্কিন নীতিনির্ধারণে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন ধনকুবের, রাজনৈতিক অলাভজনক সংস্থা ও বিভিন্ন কর্পোরেশন। এ তালিকায় রয়েছে ক্রীড়া বাজি ও ক্রিপ্টোকারেন্সির পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন গোষ্ঠী।

মোট অনুদানের মধ্যে রিপাবলিকানপন্থী দাতাদের অবদান ১৬৭ কোটি ডলার, যা শতাংশের হিসেবে প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থী দাতারা দিয়েছেন ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৩০ শতাংশ। বাকি ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার এসেছে দ্বিদলীয় বা বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসেবে চিহ্নিত উৎস থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ফেডারেল প্রার্থীদের প্রচারণায় ব্যক্তিগত অনুদানের সীমা নির্ধারিত থাকলেও, ‘সুপার পিএসি’ বা অলাভজনক রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে সীমাহীন অর্থ ব্যয় করার সুযোগ রয়েছে। এর কারণ, তাঁদের বেশির ভাগ অর্থ সরাসরি প্রার্থীদের প্রচার তহবিলে যায়নি। ২০১০ সালে আদালতের দুটি রায়ের পর এ ধরনের সংগঠনের উত্থান ঘটে। ওই রায়গুলো প্রার্থীদের কাছ থেকে স্বাধীনভাবে পরিচালিত সংগঠনগুলোর নির্বাচনে সীমাহীন অর্থ ব্যয়ের পথ খুলে দেয়। তাঁদের জানা আছে, বিনিময়ে কী করতে হবে।’।

এর ফলে অনেক ক্ষেত্রে মূল অর্থদাতা কে, তা আড়ালেই থেকে যাচ্ছে, যাকে ‘ডার্ক মানি’ বলা হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়ের আগে একাধিক সংগঠনের হাত ঘুরে আসে, ফলে মূল অর্থদাতাকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

নির্বাচনী অর্থায়ন সংস্কারের প্রবক্তা লরেন্স লেসিগের মতে, রাজনীতিবিদরা অর্থের উৎস সম্পর্কে অবগত থাকলেও ভোটারদের কাছে এই তথ্য গোপন থেকে যায়, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের প্রভাবকে সীমিত করে ফেলছে।

শীর্ষ ব্যক্তিগত দাতা ও দম্পতি

  • ইলন মাস্ক: ৪৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার
  • এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলেইন: ১৫ কোটি ডলার
  • জেফ ও জ্যানিন ইয়াস: ১১ কোটি ডলার

উল্লিখিত তিন দাতা ও দম্পতি তাদের অনুদান প্রধানত রিপাবলিকানপন্থী সংগঠনের তহবিলে দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাটপন্থী শীর্ষ ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে রয়েছেন জর্জ সরোস (১০ কোটি ২০ লাখ ডলার), মাইক ব্লুমবার্গ (৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার) এবং রিড হফম্যান ও তাঁর স্ত্রী মিশেল ই (৪ কোটি ১০ লাখ ডলার)। এরপর রয়েছেন পণ্য পরিবহনের সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইউলাইনের প্রতিষ্ঠাতা এলিজাবেথ ও রিচার্ড ইউলেইন দম্পতি। এবার চারজন ব্যক্তি প্রত্যেকে ১০ কোটি ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন। গণতন্ত্রে একজন মানুষের যতটা গুরুত্ব থাকা উচিত বলে আমরা মনে করি, অনুদান দেওয়ার জন্য হাতে ১০ কোটি ডলার না থাকলে সেই গুরুত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।’।

শীর্ষ রাজনৈতিক সংগঠন ও অনুদান

  • ওয়ান নেশন: ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার
  • আমেরিকান অ্যাকশন নেটওয়ার্ক: ৬ কোটি ৪৩ লাখ ডলার
  • আমেরিকান প্রসপারিটি অ্যালায়েন্স: ৫ কোটি ৭ লাখ ডলার

ডেমোক্র্যাটপন্থী প্রধান সংগঠন

  • হাউস মেজরিটি ফরোয়ার্ড: ৯ কোটি ৩৭ লাখ ডলার
  • ইকোনমিক অপরচুনিটি ফান্ড: ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলার

ক্রিপ্টো ও অন্যান্য খাতের প্রতিষ্ঠান

নির্বাচনী অর্থায়নে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বাজি ব্যবসার মতো খাতগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা গেছে। সংগঠনটি সিনেটে রিপাবলিকান নেতৃত্বের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। এগুলো যথাক্রমে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বের সঙ্গে যুক্ত অলাভজনক সংগঠন।

বিশেষ করে কয়েনবেস ৫ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, রিপল ৪ কোটি ৯৬ লাখ ডলার এবং ফরিস ডিএএক্স ৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে।

এছাড়া শিল্পগোষ্ঠী কচ ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার এবং ড্রাফটকিংস ৪ কোটি ৪ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্প কিছু মানুষের হাতে এমন বিপুল পরিমাণ অর্থ কেন্দ্রীভূত হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের স্বার্থ রক্ষা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *