লালমনিরহাটে বাঘের আক্রমণে আহত ৩, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের উত্তর আমঝোল সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় বাঘের উপস্থিতিতে জনমনে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। রোববার বিকেলে বাঘের আকস্মিক আক্রমণে নারীসহ তিনজন আহত হওয়ার পর থেকে গ্রামবাসী নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। বন্যপ্রাণীটির অবস্থান শনাক্ত করে নিরাপদে উদ্ধারের জন্য বিজিবি ও বন বিভাগ যৌথভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরে বাদামবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ধানখেতে কিছু একটা নড়ছে। কাছে গিয়ে দেখা যায়, একটি বাঘ ছাগলটিকে মেরে ফেলে রেখেছে। এর আগে এলাকায় কুমির ও বিষধর সাপের আতঙ্ক দেখা দিলেও এবার বাঘের আক্রমণের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্ত গ্রামের অধিবাসীরা চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছেন। অনেকেই মাঠে কাজ করা বা নদীতে নামতে দ্বিধাবোধ করছেন।

ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন শরিফা বেগম নামে এক নারী নিজের হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে বাঘের কবলে পড়েন। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আরও দুজন গ্রামবাসী বাঘের আক্রমণের শিকার হন। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মামুন রহমান জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরিফা বেগমের অভিভাবক মমিনা বেগম বলেন, ‘শরিফা তাঁর ছাগল আনতে যান। এ সময় পাশেই বাঁশ কাটতে যাওয়া ভাসুরসহ দুজন ছাগলের কাছে গেলে বাঘটি হঠাৎ তাঁদের ওপর হামলা চালায়।’।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খবর পেয়ে ১৫ বিজিবির একটি টহল দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ফাঁকা গুলি ছোড়ে।

এতে বাঘটি নিকটস্থ জঙ্গলে আশ্রয় নেয়। ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, ড্রোন ব্যবহার করে বাঘটির গতিবিধি লক্ষ্য করা হচ্ছে এবং প্রাপ্ত তথ্য বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছে। বন্যপ্রাণী আইন মেনে প্রাণীটিকে উদ্ধারের পাশাপাশি জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। ড্রোন ফুটেজ থেকে প্রাপ্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের কথা জানিয়ে ১৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানান, বন্যপ্রাণী আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও এ।

এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, ধানখেত ও জঙ্গল এলাকায় চাষাবাদ কিংবা খাল-নদীতে যাতায়াত করতে সবাই ভয়ে কুঁকড়ে আছেন। বকুল মিয়া নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, বাঘের আতঙ্কে সীমান্ত সংলগ্ন জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এর আগে এলাকায় সাপের উপদ্রব থাকলেও বাঘের আক্রমণ পুরো এলাকাকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও আতঙ্ক কাটিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতীক্ষায় রয়েছেন।

ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা অতিক্রান্ত হলেও শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বাঘটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। বন বিভাগ, পুলিশ ও বিজিবি বন্যপ্রাণীটিকে নিরাপদে ধরতে একযোগে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত সীমান্ত এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার রাখা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *