শীতে পানিশূন্যতা রোধে যেসব লক্ষণে সতর্ক হওয়া জরুরি

শীতের মৌসুমে আবহাওয়া শুষ্ক থাকায় এবং তৃষ্ণা কম পাওয়ার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। ফলে অজান্তেই শরীরে পানির ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দেখা দেয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতে পানিশূন্যতার বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই, কারণ এটি শরীরের স্বাভাবিক কর্মক্ষমতায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। সময়মতো এসব লক্ষণ চিনতে না পারলে পানিশূন্যতা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে। এ ছাড়া মুখ শুকিয়ে যাওয়ার কারণে নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং ত্বকে চুলকানি হতে পারে।

শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হলে বেশ কিছু শারীরিক লক্ষণ দেখা দেয়, যা আমাদের সচেতন হওয়ার সংকেত দেয়। পানিশূন্যতার প্রাথমিক উপসর্গগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা অনুভব করা। এর পাশাপাশি মুখ গহ্বর শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ত্বক প্রাণহীন হয়ে পড়া এবং প্রস্রাবের রঙের পরিবর্তন হওয়া পানিশূন্যতার স্পষ্ট লক্ষণ। অনেকের ক্ষেত্রে পানির অভাবে মাথাব্যথা বা মনোযোগের অভাবও দেখা দিতে পারে। দ্রুত শ্বাস নেওয়া, হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং খিঁচুনির মতো গুরুতর উপসর্গ দেখা দিতে পারে। শিশুদের চোখ বসে যাওয়া ও ত্বক কুঁচকে যাওয়াও বিপদের সংকেত। পানিশূন্যতার কারণে ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ও মনোযোগের ঘাটতি দেখা দিলে অনেকে সেগুলোকে ক্ষুধার লক্ষণ বলেও ভুল করতে পারেন। শিশুদের ক্ষেত্রেও বয়স ও শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী উপযুক্ত তরল দিতে হবে। তবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো।

শীতকালে পানিশূন্যতা থেকে বাঁচতে তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষায় থাকা ঠিক নয়। শরীর সচল ও সুস্থ রাখতে নিয়মিত বিরতিতে সামান্য পরিমাণ হলেও পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পানের পাশাপাশি লেবুর শরবত, ফলের রস বা কুসুম গরম পানি পান করা যেতে পারে। এছাড়া দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পানিযুক্ত ফল ও শাকসবজি রাখলে তা শরীরের পানিশূন্যতা পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

শিশুদের ক্ষেত্রে পানিশূন্যতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে, কারণ তারা অনেক সময় তৃষ্ণার কথা ঠিকমতো বুঝতে বা বোঝাতে পারে না। একইভাবে বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যেও পানিশূন্যতার প্রবণতা দেখা যায়। তাই পরিবারের সদস্যদের পানির চাহিদার প্রতি বাড়তি খেয়াল রাখা জরুরি। যদি কারো মধ্যে পানিশূন্যতার తీవ్ర কোনো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিয়মিত পানি পান করার সুঅভ্যাসই পারে শীতের এই শুষ্ক সময়ে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *