নেপালের: পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের জন্য মাথাপিছু ৩১ লাখ টাকা করে চাইছে পিসিবি
নেপাল প্রিমিয়ার লিগের (এনপিএল) আসন্ন আসরে অংশগ্রহণকারী ছয় পাকিস্তানি ক্রিকেটারের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। অভিযোগ উঠেছে যে, এসব ক্রিকেটারের অনাপত্তিপত্র বা এনওসি প্রদানের জন্য মাথাপিছু ২৫ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৩১ লাখ টাকা। ক্রিকেটভিত্তিক ওয়েবসাইট ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্যানুযায়ী, এনপিএলের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, এরই মধ্যে যেসব পাকিস্তানি ক্রিকেটার নেপালে পৌঁছেছেন, তাঁদের অনাপত্তিপত্র আটকে রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দাবি, এই অর্থ পরিশোধ না করলে এনওসি বাতিল করার হুমকিও দিচ্ছে পিসিবি। যদিও এই দাবির পেছনে পিসিবির কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত প্রক্রিয়া আছে কি না বা ঠিক কী কারণে ছাড়পত্র আটকে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। পিসিবির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পিসিবির বক্তব্য জানতে চেয়েছিল ক্রিকইনফো। শাদাবের সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের অবিশ্বাস্য জয়, শেষ জুটিতে রেকর্ড। অস্ট্রেলিয়ার পর ইংল্যান্ডকেও গুঁড়িয়ে দিলেন, পাকিস্তানের নতুন রত্ন কে এই আরাফাত মিনহাস।
এনপিএলের তৃতীয় আসরে খেলতে যাওয়া পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছেন হাসান আলী, উসামা মীর, ইফতিখার আহমেদ, সাহিবজাদা ফারহান, হুসেইন তালাত এবং হায়দার আলী। ১৬ অক্টোবর আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল এই টুর্নামেন্টের অনুমোদন দিয়েছে। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, উল্লেখিত ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক সূচির সঙ্গে এনপিএলের কোনো সংঘর্ষ নেই, যার ফলে তাদের অংশগ্রহণে কোনো স্বাভাবিক বাধা থাকার কথা ছিল না। আজ সোমবার কীর্তিপুরের ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মাঠে শুরু হচ্ছে এনপিএল।
পিসিবির বিরুদ্ধে এমন অর্থ দাবির অভিযোগ নতুন নয়। গত জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল। তখন পিসিবিকে অর্থ প্রদান নিয়েও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বড় ধরণের আপত্তি ছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তির সময় এই বাড়তি খরচের বিষয়ে পিসিবি কিছুই জানায়নি। টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে অর্থ দাবি করা এবং ছাড়পত্রের বিনিময়েও কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়ায় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা চরম ক্ষুব্ধ। একটি সূত্র তো বিষয়টিকে ‘চাঁদাবাজি’ বলেও আখ্যা দিয়েছিল। তিন ক্রিকেটারের ছাড়পত্রের জন্য অর্থ নেওয়ার পর পিসিবি বুঝতে পারে, তারা একজনের অর্থ কম নিয়েছে।
এমনকি একটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছিল, অর্থ পরিশোধের পরও পিসিবি ভুলবশত অন্য একটি হিসাব দেখিয়ে ম্যাচ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে পুনরায় ২৫ হাজার ডলার দাবি করেছিল। বিকল্প ক্রিকেটার নেওয়ার সুযোগ না থাকায় ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো নিরুপায় হয়ে পড়ে। পিসিবির এমন আচরণের প্রতিবাদে এমএলসির বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি পরবর্তী সময়ে পিসিবির চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের দলে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এমনকি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে অদ্ভুত ঘটনাও ঘটেছিল।
এর আগে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি দাবি করেছিলেন যে, অনাপত্তিপত্রের বিনিময়ে অর্থ নেওয়া বোর্ডের একটি বৈধ আয়ের পথ। তবে এনপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্টরা এটিকে এক প্রকার হয়রানি হিসেবেই দেখছেন। টুর্নামেন্ট শুরুর আগের এই জটিলতায় দলগুলোর ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

