পাঁচ বছরেও অধরা কলিমাজানি নদীর সেতুর সুফল

টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নে কলিমাজানি নদীর ওপর একটি সেতুর নির্মাণ কাজ দীর্ঘ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। দুই বছরের নির্ধারিত মেয়াদের কাজ পাঁচ বছরেও আলোর মুখ না দেখায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়া নিয়ে দুই পাড়ের মানুষের মাঝে এখন তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৯ কোটি ৪৫ লাখ ১৮ হাজার ৬৮৮ টাকা ব্যয়ে এই সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। কাজের কার্যাদেশ পাওয়ার পর ‘মেসার্স দুর্গা এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড আব্দুস সালাম খান’ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি নির্মাণ কাজ শুরু করে। তবে প্রকল্পের অর্ধেক কাজ শেষ হওয়ার আগেই প্রতিষ্ঠানটি রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ করে দেয়।

উপজেলা প্রকৌশল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বারবার তাগাদা দেওয়ার পর মাঝে কিছুদিন কাজ হলেও তা দ্রুতই থমকে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মো. শাজাহানের তত্ত্বাবধানে আবারও নির্মাণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সাব-কনট্রাক্টর মো. পারভেজ জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে একসাথে একাধিক কাজ নেওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছিল, যার ফলে প্রকল্পটিতে দীর্ঘ সময় ভাটা ছিল। বর্তমানে কাজ চলমান থাকলেও তা প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সেতুর অভাবে প্রতিনিয়ত ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোড়াই সোহাগপুর থেকে নদী পর্যন্ত পিচঢালা সড়ক থাকলেও সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। বিশেষ করে কলিমাজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পথহারা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেয়া নৌকায় নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে যায়। একই ভোগান্তির শিকার গোড়াই ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়ের মানুষ এবং স্থানীয় শিল্পকারখানার শ্রমিকেরা। সেতুটি সম্পন্ন হলে কলিমাজানি, নয়াপাড়া ও ভানুয়াবহ গ্রামের বাসিন্দারা কালিয়াকৈরের আড়াইগঞ্জ হয়ে ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও ঢাকার সঙ্গে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন।

প্রকল্প বিলম্বের বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই মূল কাজে দেরি হয়েছে। তবে এখন নিয়মিত তদারকি ও চাপের মাধ্যমে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।

About The Author

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *