মুক্তিযোদ্ধার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় বাধা দুঃখজনক, পরিণাম ভোগ করতে হবে: জাহেদ উর রহমান
একজন মুক্তিযোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানানোর সময় বাধা দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অনভিপ্রেত ও দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি সুস্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই অমানবিক ঘটনার সঙ্গে একটি রাজনৈতিক দল জড়িত রয়েছে এবং এর নেতিবাচক পরিণাম তাদের ভোগ করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাকে কবর দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আমাদের সামনে যে তথ্য সামনে আসলো, সেটা খুবই আসলে দুঃখজনক যে পলিটিক্যাল পার্টি এটার সঙ্গে ইনভলভ হয়ে কাজগুলো করেছে। তিনি বলেন, কারণ আমি জেনেছি, আমি জানি, আমি বুঝি, এটা আসলে কেউ সঠিকভাবে নেয়নি। আমি নিশ্চিতভাবেই বলতে পারি এটার কনসিকুয়েন্স তারা ফিল করবে। তিনি বলেন, কোথাও এটা এমন পর্যায়ে যায়নি যে সরকার এটাকে কনসিডেন্সে নিচ্ছে না।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, একজন মানুষের মৃত্যুর পর তার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে এমন আচরণ কেউ সমর্থন করে না। যারা এ ধরনের কাজে লিপ্ত হয়েছেন, তারা সমাজে শেষ পর্যন্ত নিন্দিত হবেন। তিনি জানান, অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে যেখানে বিচারপ্রক্রিয়া শেষে মরদেহের সঙ্গে অমর্যাদাকর আচরণ করা হয়েছিল, যা সেই বিচারপ্রক্রিয়ার সমর্থনকারীরাও মেনে নিতে পারেননি। মানুষের মৃত্যুর পর অন্তিম সম্মান পাওয়ার অধিকার রয়েছে এবং বিচার বিচারের জায়গায় থাকবে, কিন্তু মৃত্যুর পরবর্তী প্রক্রিয়ায় এমন বাধা সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তখন ওই বিচারগুলোর পক্ষে থাকা ব্যক্তিরাও মরদেহের সঙ্গে এমন আচরণ পছন্দ করেননি। তিনি বলেন, একটা মানুষ যখন মারা যান, তখন আসলে তিনি এই অধিকার রাখেন।
উপদেষ্টা আরও বলেন, তথ্য অনুযায়ী এটি প্রমাণিত যে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলটি এই কাজে সরাসরি জড়িত। তিনি বলেন, বিষয়টি কেউ স্বাভাবিকভাবে নেয়নি এবং এর কনসিকুয়েন্স বা ফলাফল তাদের ফিল করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, অপরাধীরা সমাজে প্রশংসিত তো হবেই না, বরং তারা কোনোভাবেই জনগণের সমর্থন পাবে না।
সংবাদ সম্মেলনে টঙ্গীতে ঘটে যাওয়া শিশু নির্যাতনের ঘটনার বিষয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার এ ধরনের ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে। সরকার এসব ঘটনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে তিনি জানান। উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, এভাবে আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকলে সমাজ থেকে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসবে।

