প্রেসে ককটেল হামলা, নিন্দা জানাল জামায়াতে ইসলামী
রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত পত্রিকার নিজস্ব ছাপাখানার সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদ জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রেসের সামনে দুর্বৃত্তদের ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে জানানো হয়, রোববার ২৫ অক্টোবর দিবাগত রাত ১১টার দিকে একটি মোটরসাইকেলে করে দুইজন ব্যক্তি সেখানে এসে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। একটি ককটেল বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয় এবং অন্যটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় পাওয়া যায়। এ সময় বিস্ফোরণের তীব্রতায় এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। হামলার খবর পাওয়ার পর তেজগাঁও থানা পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি চালালেও এখন পর্যন্ত দুর্বৃত্তদের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশ দুর্বৃত্তদের ধরতে আশপাশের এলাকায় রেকি করলেও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। লালটেপ মোড়ানো আরেকটি অবিস্ফোরিত অবস্থায় সেখানে পড়ে ছিল। ককটেলের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছোটাছুটি শুরু করে।
এই হামলায় ছাপাখানার নিরাপত্তারক্ষী আকতার হোসেন এবং সামনের পানের দোকানি রিনা খানম আহত হয়েছেন। তাদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। তিনি বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, গণমাধ্যমের কার্যালয় বা ছাপাখানার মতো সংবেদনশীল স্থানে এ ধরনের সহিংসতা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের হুমকি।
রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতাকে রুদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা অগণতান্ত্রিক। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে হামলাকারীদের শনাক্ত ও বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে -সহ দেশের সব সংবাদ প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। গণমাধ্যমের ওপর ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা কিংবা সহিংসতার মাধ্যমে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি।

