১ নভেম্বর খুলছে সেন্টমার্টিন, জরাজীর্ণ পন্টুন নিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন। পর্যটন মৌসুমকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দ্বীপের ব্যবসায়ীরা হোটেল-রিসোর্ট মেরামত, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে পর্যটক আগমনের ঠিক আগমুহূর্তে দ্বীপের জেটিতে জাহাজ ভেড়ানোর পন্টুনের জরাজীর্ণ দশা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইকো রিসোর্টের পরিচালক ও পর্যটন ব্যবসায়ী খায়রুল আলম জানান, দীর্ঘদিন পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে রিসোর্টের কাঠের কাঠামো ও ছাউনি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘসময় অব্যবহৃত থাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিও নষ্ট হয়েছে। বছরে মাত্র দুই-তিন মাসের পর্যটন মৌসুমের আয়ের ওপর নির্ভর করেই তাদের সারা বছর চলতে হয়। কিন্তু গত দুই বছর পর্যটক চলাচলে বিধিনিষেধ ও রাত্রিযাপন বন্ধ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। তবে নভেম্বর থেকে দ্বীপ উন্মুক্ত হওয়ার ঘোষণায় পর্যটকদের কাছ থেকে আগাম বুকিং আসতে শুরু করেছে।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দ্বীপের হোটেল, মোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে সংস্কারকাজ চলছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ীরা চলতি মাসে তিন শতাধিক আবেদন করেছেন। যাচাই-বাছাই শেষে এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে সংস্কার কাজের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। দ্বীপে ছোট-বড় মিলিয়ে দুই শতাধিক আবাসিক হোটেল রয়েছে, যার অনেকগুলোতেই বর্তমানে পুরোদমে কাজ চলছে।
গলাচিপা এলাকার হোটেল সেইলার ইকো-রিসোর্টের প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকার ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বলেন, রিসোর্টের বাঁশের বেড়া ও ছাউনি পরিবর্তনের পাশাপাশি সামগ্রিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে। এদিকে সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম জানান, দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের সংস্কারকাজ চললেও জেটির পন্টুন মেরামত করা সবচেয়ে জরুরি। পন্টুনের বিভিন্ন স্থানে মরিচা ধরে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, যা পর্যটকদের চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আমিন আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত সংস্কার না করা হলে পর্যটকদের ওঠানামার সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সেন্টমার্টিন জেটি কক্সবাজার জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী মো. সাইফুদ্দিন জানান, প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন জেটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে চলতি বছরের ডিসেম্বরে। জেটির প্ল্যাটফর্মের কিছু কাজ এখনো বাকি থাকলেও বর্তমানে পন্টুন মেরামতের কাজ চলছে। পর্যটকদের ভোগান্তি ও ঝুঁকি কমাতে জাহাজ চলাচলের আগেই প্ল্যাটফর্মের কাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

